হাসিবুর রহমান © সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সি ইউনিটের অ-বিজ্ঞান শাখার মানবিকে ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া শিক্ষার্থীর ভর্তি কার্যক্রম জালিয়াতি সন্দেহে স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার চিফ কো-অর্ডিনেটর ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. একরামুল হামিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মো. হাসিবুর রহমান নামের ওই শিক্ষার্থী নিজের ইউনিট ‘এ’-তে (মানবিক, রোল-৫৪২৩৩) পেয়েছেন মাত্র ২০ নম্বর। অথচ সি ইউনিটের (বিজ্ঞান, রোল-৮০৩১৮) অ-বিজ্ঞান শাখায় মানবিক থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে হাসিব পেয়েছেন ৮০ (এমসিকিউতে ৬০ এর মধ্যে ৫৪ ও লিখিততে ৪০ এর মধ্যে ২৬)।
ফলাফলের এই অসঙ্গতি ভর্তি পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের নজরে আসায় তাকে গত ২৫ নভেম্বর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেদিন ডিন অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরদিন মঙ্গলবার সকালে হাসিবকে কর্তৃপক্ষ ‘ঠাণ্ডা মাথায়’ চিন্তা করে আসতে বলা হয়; কিন্তু পরদিন হাসিব আসেননি।
সি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার চিফ কো-অর্ডিনেটর ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন একরামুল হামিদ বলেন, “হাসিব এ ইউনিটে মাত্র ২০ নম্বর পেয়েছে। কিন্তু সি ইউনিটে সে সর্বোচ্চ নম্বর ৮০ পেয়েছে। এ তথ্যটি জানার পর সন্দেহ থেকে তাকে সেদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাকে ঠাণ্ডা মাথায় সবকিছু চিন্তা করে মঙ্গলবার সকালে এসে আসল তথ্য দিতে বলা হয়। কিন্তু তারপর দুদিন হয়ে গেলেও সে আসেনি। তার ফোন নম্বরও বন্ধ।”
তিনি বলেন, “সেদিন তার হাতের লেখা পরীক্ষা করা হয়েছে। তার হাতের লেখাও সন্দেহজনক মনে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তাতে সে খুব বেশি উত্তর দিতে পারেনি। একটু গরমিল মনে হয়েছে। পরে তার এ ও সি ইউনিটের পরীক্ষার দুটি খাতাও দেখা হয়েছে। সেখানেও তার হাতের লেখায় গড়মিল দেখা গেছে। সবমিলিয়ে আমরা ডিনরা বসে জালিয়াতির সন্দেহে তার ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করেছি।”
তার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে প্রশ্ন করা হলে একরামুল হামিদ বলেন, “ভর্তি কার্যক্রম যেহেতু ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এ সময়ে সে (হাসিব) আসলে তাকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আমরা ডিনরা একটা তদন্ত কমিটি হয়ত পরে করব।”
জানা যায়, হাসিবুর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট থানার বাড়ইপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। হাসিব ২০১৯ সালে রাজশাহীর নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে।