বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান © সংগৃহীত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘সন্ধ্যা আইন’ নামে নতুন কোনো আইন চালুর বিষয়ে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত প্রচারিত খবরকে গুজব আখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের চতুর্থ তলায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এমএ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লক্ষ্য করেছি, সন্ধ্যা আইন নামে একটি আইন বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে অথবা হতে যাচ্ছে—এমন কিছু সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়নি কিংবা এমন কোনো চিন্তা অনুমোদন করেনি। যে প্রচারগুলো হচ্ছে, সেগুলো গুজব।’
তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় গুজব সংবাদ পরিবেশন করা হয়, যা সাময়িকভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী হিসেবে যেকোনো সংবাদের সত্যতা, তথ্যপ্রমাণ ও ভিত্তি যাচাই করা জরুরি। যথাযথভাবে নিশ্চিত না হয়ে এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি মনে করি, যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের দেশের প্রতি মমত্ববোধ ও স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানিয়ে ইবি উপাচার্য আরও বলেন, ‘কোনো বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংশয়, আশঙ্কা কিংবা প্রশ্ন তৈরি হলে তা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি অথবা হলের প্রভোস্টের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাবে। আমরা অবশ্যই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব। সচেতন নাগরিক ও শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।’
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। পাশাপাশি কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দেশসেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান। পরে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও স্মারক প্রদান করা হয়।