© টিডিসি ফটো
ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দেয়া খায়রুল হাসান সৈকত। স্ট্যাটাসে সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে এমন ঘোষণা দেওয়ার জন্য ক্ষমাও চান তিনি।
বৃহস্পতিবার নিজের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যক ফেসবুক আইডিতে এ ঘোষণা দেন। সৈকত ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। তবে ছাত্রলীগের দাবি সৈকত সংগঠনের কেউ নন।
সৈকত তার স্ট্যাটাসে লিখেন, “ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, বরিশাল নগরীর প্রিয় অভিভাবকবৃন্দ, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ভাই, রইজ আহমেদ মান্না ভাই, আতিকুল্লাহ মুনিম ভাই, অনিক সেরনিয়াবাত ভাই। ছাত্র রাজনীতি শূন্য বিএম কলেজের পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য বাধ্য হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে বাকসু আন্দোলনের ডাক দিতে হলো। শনিবার থেকে বিএম কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচনের দাবিতে কলেজটি অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো। কলেজসমূহ সকল সংগঠনের আন্তরিক সহযোগিতা কাম্য।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ছাত্রলীগের কোনো তালিকায় সৈকতের নাম নেই। তবে সে কিভাবে নেতা হয়। আর সে যে স্ট্যাটাস দিয়েছে এটা তার ব্যক্তি মতামত হতে পারে। এর সাথে ছাত্রলীগের কোন সম্পৃক্ততা নেই।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “কোনো ছাত্র নেতারই ক্ষমতা নেই শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করার। এই ঘোষণা যদি কেউ দিলে সেটা অযৌক্তিক। সরকারের সিদ্ধান্ত ছাড়া শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা অসম্ভব।”
বিএম কলেজ অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান সিকদারের বলেন, “আমারই তো এখতিয়ার নেই কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করার। ওই ছাত্রলীগ নেতা কিভাবে এই ঘোষণা দেয় সেটা বুঝতে পারছি না। এটা সম্পূর্ণ কাণ্ডজ্ঞানহীণ কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়।”
স্ট্যাটাসের বিষয়টি স্বীকার করে খায়রুল হাসান সৈকত বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে জোর আন্দোলন শনিবার থেকে শুরু হবে। সেই লক্ষে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছি।