© ফাইল ফটো
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শাহেদুর রশিদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন ওই বিভাগের এক ছাত্রী। শনিবার অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হলে ক্যাম্পাসে হইচই শুরু হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম এই অভিযোগের ব্যাপারে বলেন, ‘এ ধরণের একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছিলো। আমি যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলে পাঠিয়েছি। তারা এটি তদন্ত করছে।’
অভিযোগপত্রে ছাত্রী উল্লেখ করেন, ‘অধ্যাপক শাহেদুর রশিদ আমার গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। ২০১৮ সালের ২ জুলাই দুপুর আড়াইটায় অধ্যাপক শাহেদুর রশিদের কক্ষে যাই। এ সময় তার কক্ষে বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক ও একজন সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে অধ্যাপক শাহেদুর রশিদ গবেষণা সংক্রান্ত আলোচনা করেন। কিন্তু ওই দুই শিক্ষক চলে গেলে তিনি (অধ্যাপক শাহেদ) রুমের দরজা লক করেন। পরে নিজের চেয়ারে না বসে আমার পাশের চেয়ারে বসেন। আচমকা আমার হাত ধরে বন্ধুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক কেমন চলছে- এ ধরনের ব্যক্তিগত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। এক পর্যায়ে তিনি তার অন্য হাতটি আমার কাঁধের ওপর রেখে আমাকে পরীক্ষার ফলাফল ভালো করানোর, ক্যারিয়ার গড়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান। তার এ ধরনের অস্বাভাবিক আচরণের কারণে আমি জোরপূর্বক দরজার লক খুলে বের হয়ে আসি।’
অভিযোগপত্রে ওই ছাত্রী আরও উল্লেখ করেন, ‘একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরণের অশিক্ষকসুলভ ও হয়রানিমূলক আচরণ কোনভাবেই কাম্য নয়। এই ঘটনায় আমি বিচলিত হয়ে পড়ি এবং আমার বন্ধুকে বিষয়টি অবহিত করি। সে আমাকে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানোর পরামর্শ দেয়।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভাগের এক শিক্ষক জানান, ‘এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রী বিভাগ পরিবর্তন করে সরকার ও রাজনীতি বিভাগে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। বিষয়টি নিয়ে কোনো তদন্ত হয়নি। সম্প্রতি অধ্যাপক শাহেদুর রশিদ উপাচার্যপন্থী শিক্ষক রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন। এ কারণে এ অভিযোগকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে আমার ধারণা।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে আমি কোন কথা বলতে চাচ্ছি না। যখন দরকার হবে আমি তখন কথা বলবো।’
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত অধ্যাপক শাহেদুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।