গোল টেবিল আলোচনায় অতিথিরা © সংগৃহীত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ছাত্রলীগকে খুশি করতে না পারলে আরেক মেয়াদে উপাচার্য হিসেবে থাকা সম্ভব না। ছাত্রলীগের নেতাদের খুশি করা তাঁর দায়িত্বের মধ্যে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান অবস্থায় বরাদ্দ যত বেশি ঝুঁকি তত বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বরাদ্দে স্থাপত্য নিয়োগ, ঠিকাদার নিয়োগেও দুর্নীতি হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এই কথা বলেন। নাগরিক ছাত্র ঐক্য ‘শিক্ষাঙ্গনে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস’ শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে।
চলমান দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশে উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কমিশনেরও উন্নয়ন ঘটছে। আগে এক লাখ টাকা হলে এখন তা এক কোটি হয়েছে। কোথাও কোনো জবাবদিহি নেই। এগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না।
তিনি আরও বলেন, এ সরকারের সংখ্যা প্রীতি অনেক। কিন্তু মানের দিকে মাথাব্যথা নেই। রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন সব উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয় যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় নেই। শিক্ষকতার চেয়ে যারা আনুগত্যের প্রতি বেশি মনোযোগী থাকবেন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সত্য কথা না বলাটাই হলো সবচেয়ে বড় দুর্নীতি। আমরা সবাই তার অংশীদার হয়ে যাচ্ছি। সাহস হারিয়ে ফেলেছি। সত্য বলতে না দেওয়াও দুর্নীতি।’
চরম একটা কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র জনগণের ওপর চেপে বসেছে বলে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সিআর আবরার। তিনি বলেন, এখন বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিরাজমান। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হয়েছে। কোনো জবাবদিহি নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নয় ভোটার নিয়োগ হয়। শিক্ষক নিয়োগে অনেক অধঃপতন হয়েছে বলে তিনি জানান।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের শিক্ষক তৌহিদুল হক, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন ও যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, নাগরিক ঐক্যের জাহেদ উর রহমান প্রমুখ।