মধ্যরাতে ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ, ৪ দাবিতে হোম ইকোনমিকসের ছাত্রীদের বিক্ষোভ © টিডিসি ফটো
রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে মধ্যরাতে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আবাসিক হলের সিট বাতিল ও জরিমানার জেরে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অধ্যক্ষকে তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা। পরে পুলিশ এসে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করার সময় ছাত্রীদের ওপর পুরুষ পুলিশ দিয়ে লাঠিচার্জ ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পূজার ছুটির আগে কলেজের অডিটোরিয়ামে স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত সময়সীমা থাকলেও অনুষ্ঠান শেষ হয় ভোর ৫টার দিকে। নির্ধারিত সময়ের পরও অডিটোরিয়াম ব্যবহার করায় অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের সিট বাতিল করেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা। পরে শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাইতে গেলে সিট ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে এক রাতের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হয়। শিক্ষার্থীরা এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতির অবনতি হয় এবং তাঁরা অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করেন।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ এসে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এরপর রাত সাড়ে ১২টায় শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে একটি প্রেস ব্রিফিং করেন। সেখানে তাঁরা অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ পরিস্থিতি সমাধানের বদলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ডেকে এনেছেন। পুরুষ পুলিশ সদস্যরা ছাত্রীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে, চুল ও হিজাব ধরে টেনেছে এবং অনেকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। পুলিশের হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং দুজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তাঁরা। এবং এই দুজনকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মোট ৪টি দাবি ঘোষণা করেন। তাদের দাবিগুলো হচ্ছে— শুক্রবার ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সরকারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না, মধ্যরাতে ছাত্রীদের গায়ে হাত তোলা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার সুস্পষ্ট জবাব দিতে হবে এবং জড়িত পুলিশ সদস্যদের শোকজ করতে হবে, অধ্যক্ষ লিখিতভাবে কোনো ডকুমেন্ট না দিলে কলেজের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, যেসব শিক্ষক ও কর্মচারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দিয়ে একে বৈধতা দিয়েছেন, তাঁদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো।