সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয়ভিত্তিক বৈষম্য বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিতের দাবি © টিডিসি ফটো
সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয়ভিত্তিক বৈষম্য বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণের মতো বিষয় বিবেচনা করে কাউকে বঞ্চিত করা হচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন জকসুর নেতারা।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে জকসুর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ‘সরকারের শিক্ষা খাতে অযাচিত হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে তারা এ মানববন্ধন করছেন। এনটিআরসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিকে ক্ষমতা দেওয়া, ভাইভায় অতিরিক্ত নম্বর এবং নতুন পুলিশ ভেরিফিকেশন কার্ড চালুর মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক পরিচয় বা জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণের মতো বিষয় বিবেচনা করে কাউকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট করতে হবে।’ দেশের বিভিন্ন জেলার দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর নিয়োগ বাতিলের কারণ দ্রুত প্রকাশের দাবিও জানান জকসুর জিএস।
জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধের মুখে সরকার গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও পরবর্তীতে ভাইভা ও ভেরিফিকেশনের নামে নতুন করে নিয়োগ বাণিজ্যের চেষ্টা করা হয়েছে।’
ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে থাকা প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি। রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থী ও জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।’ সরকারকে শিক্ষার্থী ও জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান জকসুর ভিপি।
মানববন্ধনে জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফসল হিসেবেই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে।’ তবে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় না থাকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাসপাতাল ভাঙচুর, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে মানুষের জীবন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে বলেও দাবি করেন ইব্রাহিম খলিল। মানববন্ধনে জকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।