ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। © টিডিসি ছবি
আওয়ামী লীগ এভাবে পালিয়ে বিদায় নেবে—এমনটা পৃথিবীর কোনো জ্যোতিষী বা গোয়েন্দা সংস্থাও ভাবতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ যা চান তাই হয় এবং আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে কিছুই হয় না।’
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহ যা চান তাই হয় এবং আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে কিছুই হয় না। আওয়ামী লীগ কি চিন্তা করছিল তারা এভাবে পলায়া যাবে? পৃথিবীর কোনো জ্যোতিষ, পৃথিবীর কোনো গোয়েন্দা সংস্থাও চিন্তা করে নাই যে আওয়ামী লীগ এইভাবে পালিয়ে বিদায় নিবে।’
এরপর ১৯৭৫ সালের ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, ওই সময় অল্প কয়েকজন কর্মকর্তা বড় একটি ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। শেরে বাংলা নগরে রক্ষীবাহিনী অবস্থান করলেও তারা কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি। সেই রক্ষীবাহিনী কিন্তু টু শব্দ করে নাই, একটা ফায়ারও করে নাই যখন শুনলো শেখ মুজিবকে মেরে ফেলছে, তার পরিবারকে মেরে ফেলছে, তারা কিন্তু টু শব্দ করে নাই।
তিনি আরো বলেন, ১৯৯৮ সালের সিঁড়ি থেকে পড়ে হিপের ক্যাপ ভেঙে গেলে তাঁকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠায়। তাঁর এই পা ভাঙা এবং সিঙ্গাপুর যাওয়াকে তিনি আল্লাহর অশেষ রহমত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পরের দিনই তৎকালীন সরকার থেকে তাঁকে বিদেশে যেতে না দেওয়ার জন্য একটি নির্দেশনামূলক চিঠি জারি করা করে। সিঙ্গাপুরে থাকার কারণেই তিনি সেসময়ের সরকারের গ্রেফতার, অত্যাচার ও যন্ত্রণা থেকে অলৌকিকভাবে আত্মরক্ষা ও নিরাপত্তা পান বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
এসময় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে উপাচার্য ড.রইছ উদ্দিন বলেন, আমার নবীর মহব্বতে আমি আমার নবীর জন্মদিন পালন করব, আমি এখানে আলোচনা সভা করব, আমি মিলাদ করব, আমি পুরস্কার বিতরণ করব। আমি মনে করি এটা আমার আনন্দের উপলক্ষ। আপনি বাধা দিয়েন না। আপনি করবেন না। আপনার করার দরকার নাই। আপনার ব্যাপারে আমাদের কোনো বক্তব্য নাই। আপনাদের ব্যাপারে আমাদের কোনো বক্তব্য নাই।
এর আগে অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও চরিত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রইছ উদ্দিনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে মহানবী (সা.)-এর জীবনী ও আদর্শভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।