বর্ণাঢ্য আয়োজনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন © টিডিসি
শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপন, পূজা ও প্রার্থনা, শোভাযাত্রা, গীতাপাঠ ও কীর্তন সহ নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় পূজা উদযাপন পরিষদ।
আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় পূজা ও প্রার্থনা শেষে সাড়ে ১০টায় ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
পরে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে ধর্মালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাড. এম এ মজিদ এবং শৈলকূপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. হুমায়ুন বাবর ফিরোজ।
এছাড়া প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন মানিকগঞ্জের শিবালয়ের রাধামদন গোপাল মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ বৈষ্ণবাচার্য অদ্বৈতবংশোদ্ভব নন্দলাল গোস্বামী এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গৌতম কুমার দাস ও অধ্যাপক ড. তপন কুমার রায় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্রী গৌতম চন্দ্র সরকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপর কুমার পাল। পৌরোহিত্যে করেন ইবির পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী পার্থ প্রতীম চক্রবর্তী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন মহাভারত, পুরাণ ও ভাগবত পুরাণের আলোকে মথুরার কারাগারে দেবকী ও বসুদেবের ঘরে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম এবং পরবর্তী ঘটনাবলির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, একজন ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে আমি দুবার মথুরা ভ্রমণ করেছি। সেখানে একটি বড় দীঘির দক্ষিণে অবস্থিত শ্রীকৃষ্ণের মূল মন্দির এবং তার ঠিক পাশেই সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন বাবরি মসজিদ রয়েছে। সেখানে একদিকে যেমন মন্দিরে ভক্তদের সেবা চলছে পাশাপাশি পাশের মসজিদে আযান ও নামায হচ্ছিলো। এটি ধর্মীয় সহাবস্থান ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ধর্ম পালিত হবে আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে, কিন্তু আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ দৃঢ়ভাবে থাকবে। ধর্ম যার যার, দেশ কিন্তু আমাদের সবার। আমাদের এই মাতৃভূমিকে আমাদেরকে শ্রম, মেধা এবং দিয়ে আমাদেরকে এই দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ধরামায় আসার মূল উদ্দেশ্যই ছিল—দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন, এবং সৎ ও পুণ্যবান মানুষদের রক্ষা করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। আমরা এটিকে যদি সামনে নিয়ে অগ্রসর হতে পারি, তাহলে নিঃসন্দেহে সমাজ, দেশ, পরিবার ও পৃথিবী একটি পুণ্যবান মানুষের পরিপূর্ণ এবং প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু ব্যবধান না রেখে সকল নাগরিকের মূল পরিচয় 'বাংলাদেশি'। ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে একটি সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই হচ্ছে প্রকৃত জাতীয়তাবাদী দর্শন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় সব ধর্মের সম্মান, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।