মাঠ সংস্কার ছাড়াই কুবিতে ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি 

২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৮ PM
মাঠের বিভিন্ন অংশে গর্ত

মাঠের বিভিন্ন অংশে গর্ত © টিডিসি ছবি

মাঠের বিভিন্ন অংশে গর্ত ও নরম মাটি, ফুটবল মাঠের ভেতরেই নষ্ট ক্রিকেট পিচ, আর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বহিরাগতদের নিয়মিত খেলাধুলা। এমন পরিস্থিতিতেই আগামীকাল রোববার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শুরু হচ্ছে আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬। মাঠের ত্রুটিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ ও বহিরাগতদের অবাধ ব্যবহারে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং মাঠের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

টুর্নামেন্ট শুরুর এক দিন আগে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্ত রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ পাশের গোলপোস্টের সামনের অংশে কয়েকটি গর্ত দেখা গেছে। গর্তগুলো বালি দিয়ে ভরাট করা হলেও বৃষ্টির কারণে ওই অংশের মাটি এখনো নরম। সেখানে পা দিলে মাটি দেবে যাচ্ছে।

মাঠের মধ্যভাগেও কয়েকটি জায়গায় একই ধরনের নরম ও অসমতল মাটি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও বালি দিয়ে গর্ত ভরাট করা হলেও পুরো মাঠ সমান করা হয়নি।

মাঠের পূর্ব পাশে থাকা দুটি ক্রিকেট পিচের মধ্যে একটি কর্দমাক্ত ও নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। পিচটির একটি অংশ ফুটবল মাঠের ভেতরে রয়েছে। নষ্ট হয়ে যাওয়া অংশটি মাটি বা বালি দিয়ে সমান করা হয়নি। ফলে জায়গাটি অসমতল হয়ে আছে।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিনও মাঠের এমন অবস্থায় এর প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বর্ষা মৌসুমের কারণে গর্ত ভরাটে মাটির পরিবর্তে বালি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগ।

বিভাগটির উপপরিচালক মনিরুল আলম বলেন, “বর্ষা মৌসুমে খানাখন্দে মাটি ব্যবহার করলে তা কাদায় পরিণত হবে। তাই এ সময়ে বালি ব্যবহার করাই সবচেয়ে উত্তম। বালি সরে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী আবারও ভরাট করা হবে।”

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আগামীকাল বেলা ২টায় অর্থনীতি ও ফার্মেসি বিভাগের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচের পর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের দল মুখোমুখি হবে।

তবে মাঠের বর্তমান অবস্থার জন্য শুধু রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিই নয়, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বহিরাগতদের নিয়মিত খেলাধুলাকেও দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা। মাঠে বহিরাগতদের প্রবেশ ও খেলাধুলায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রতিদিনই সেখানে তাঁদের খেলতে দেখা যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. মহিউদ্দিন বলেন, “মাঠে বহিরাগত আসে, এটা আমি জানি। তবে কে বা কারা তাদের নিয়ে আসে, সেটা আমি বলতে পারি না। আর এটা তো আমি দেখি না। দেখার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মানুষ আছে, তাদের সঙ্গে কথা বলেন।”

শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক মনিরুল আলম বলেন, “বহিরাগতরা খেলে এটা আমিও দেখি। মাঝেমধ্যে আমাদের স্টুডেন্টরা আর বহিরাগত মিলে একসাথেই খেলে। এখন কে স্টুডেন্ট, কে বহিরাগত সবসময় তো আইডেন্টিফাই করা ডিফিকাল্ট। ওরা কীভাবে ঢোকে, ওটা তো সিকিউরিটির লোকজন দেখার কথা একচুয়ালি।”

নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ না হওয়ায় মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা।

গত আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ‘ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট’ নির্বাচিত শিক্ষার্থী মেহেরাজ আলভি বলেন, “কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। বিশেষ করে মাঠের পশ্চিম পাশে বেশ কিছু বড় গর্ত রয়েছে। সেখানে বালি দেওয়া হলেও গর্তগুলো ঠিকভাবে সমান করা হয়নি। ফলে খেলতে গেলে পা ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকছে।”

তিনি বলেন, “পূর্ব পাশেও দুটি ক্রিকেট পিচের কারণে জায়গাটি অনেকটা অসমান ও গর্তযুক্ত। এমনকি সেখানে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেও সমস্যা হচ্ছে। এ অবস্থায় টুর্নামেন্ট শুরু করা খেলোয়াড়দের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।”

গর্তগুলো ভালোভাবে মাটি দিয়ে ভরাট করে রোলার দিয়ে সমান করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, টুর্নামেন্ট আয়োজনের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনের দ্রুত মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওমর ফারুক বলেন, “প্রতিবছর আমাদের একটি টুর্নামেন্ট হলেও শারীরিক শিক্ষা বিভাগের মাঠের পরিচর্যা ও উন্নয়ন নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের বর্তমান অবস্থা খুবই শোচনীয়, যা খেলার অনুপযোগী।”

তিনি আরও বলেন, “এর মধ্যে বহিরাগতরা খালি পায়ে এসে মাঠটি আরও নষ্ট করে দিচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রতিদিন তাঁদের খেলতে দেখা যায়, কিন্তু প্রশাসনের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই।”

মাঠের বর্তমান অবস্থা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি ক্রীড়া খাতের বরাদ্দ কীভাবে ব্যয় করা হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। চলতি অর্থবছরে ক্রীড়া খাতে মোট কত টাকা বরাদ্দ রয়েছে এবং মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে কত টাকা ব্যয় করা হয়, জানতে চাইলে মনিরুল আলম বলেন, “আমরা চেষ্টা করতেছি মাঠের খানাখন্দগুলো সমান করে ভরাট করার, যাতে খেলোয়াড়রা ইনজুরিতে না পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কত বাজেট পেয়েছি, সেটা এই মুহূর্তে মনে নেই।”

তিনি বলেন, ক্রীড়া খাতের বাজেট বিভিন্ন ইভেন্ট ও খাতে ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে মাঠ সংস্কার, পুরস্কার, রেফারি, ডেকোরেশন এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনাও রয়েছে।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিনও মাঠের বিভিন্ন অংশ পুরোপুরি সমান ও খেলার উপযোগী না হওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বহিরাগতদের নিয়মিত মাঠ ব্যবহার চলতে থাকায় মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গণসংহতি আন্দোলনের দুই মাসব্যাপী কর্মসূচ…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় সরকার: মাহ…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ললিপপ খাওয়ার অপরাধে মাদ্রাসা ছাত্রীকে…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
যে ১০ মুহূর্তে কিংবদন্তি হয়ে উঠেছেন রোনালদো
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ঢাবি-বুয়েট-মেডিকেল: চার টপারের সফলতার গল্প
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন শর্ত, বাধ্যতামূলক যেসব তথ্য
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950