কী ভাবছেন নতুন উপাচার্য?

৪৭ বছরে মাত্র চার সমাবর্তন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে, সর্বশেষ ২০১৮ সালে

ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান ও লোগো

ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান ও লোগো © টিডিসি সম্পাদিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সমাবর্তন যেন অমাবস্যার চাঁদ। প্রতিষ্ঠার পরে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র ৪ বার। ২০১৮ সালে সর্বশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কেটে গেছে দীর্ঘ ৮ বছরেরও বেশি সময়। এ সময়ে হাজারো শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করলেও এখনো পাননি সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। 

নিয়মিত সমাবর্তন না হওয়ায় আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাচ্ছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মূল সনদপত্রের পরিবর্তে সাময়িক সনদপত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হচ্ছে তাদের। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। বিগত প্রশাসনের আমলে একাধিকবার সমাবর্তনের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর গত ৪৭ বছরে ইবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র চারটি সমাবর্তন। প্রথম সমাবর্তন হয় ১৯৯৩ সালের ২৭ এপ্রিল, দ্বিতীয়টি ১৯৯৯ সালের ৫ ডিসেম্বর, তৃতীয়টি ২০০২ সালের ২৮ মার্চ এবং সর্বশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রাশিদ আসকারীর তত্ত্বাবধানে। 

চতুর্থ সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ ও ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতকোত্তর এবং ২৩৬তম সিন্ডিকেটে অনুমোদন প্রাপ্ত এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীরা অংশগ্রহণ করেন। তারপর থেকেই বন্ধ রয়েছে সমাবর্তন আয়োজন। মূল সনদ হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। 

চতুর্থ সমাবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন প্রশাসনের সময় একাধিকবার পঞ্চম সমাবর্তনের আশ্বাস দেওয়া হয়। ২০২২ সালে ৪৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের দিন রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার পরপরই সমাবর্তনের আশ্বাস দেন তৎকালীন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান। এর ১ বছর পর ৪৫তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আলোচনা সভায় ২০২৪ সালের মধ্যে ৫ম সমাবর্তন আয়োজনের ঘোষণা দেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম। 

জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও দেওয়া হয় ৫ম সমাবর্তন আয়োজনের আশ্বাস। গতবছরের জুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ইবির ৫ম সমাবর্তন আয়োজনের আশ্বাস দেন সাবেক উপাচার্য ড. নকীব নসরুল্লাহ। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে তাকে সরিয়ে দেওয়া হলে তিনিও কথা রাখতে পারেননি। 

এদিকে দীর্ঘদিন সমাবর্তন না হওয়ায় বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা ও জটিলতা। তাদের মতে, সমাবর্তন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি তাদের পরিশ্রম ও অর্জনের স্বীকৃতি। নিয়মিত সমাবর্তন না হওয়ায় শিক্ষাজীবন শেষ করেও সদ্য গ্র্যাজুয়েটরা আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ নিতে পারছেন না। অনেক সময় চাকরির প্রয়োজনে বা বিদেশে স্কলারশিপের ক্ষেত্রে মূল সনদ প্রয়োজন হলেও সমাবর্তন না হওয়ায় মূল সনদ পাচ্ছেন না তারা পরবর্তী উচ্চ শিক্ষার অন্যতম প্রধান অন্তরায়। 

ইবির সমাবর্তন নিয়ে অবস্থা যখন এমন, তখন সমাবর্তন নিয়ে কী ভাবছেন তা জানতে চাওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের কাছে। তিনি বলেন, এতদিন যারা শুধু আশ্বাস দিয়েছেন, সেটা তারা তাদের জায়গা থেকে দিয়েছেন। আমি এখন কোন ধরনের আশ্বাসও দিচ্ছি না। কারণ এখন সমাবর্তন আয়োজনের জন্য উপযুক্ত সময় নয়। নতুন প্রশাসন সবেমাত্র দায়িত্ব নিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সংকট, নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। সমাবর্তন আয়োজনের চেয়ে এগুলো সমাধান করা প্রশাসনের বেশি জরুরি। সমাবর্তন আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থিতিশীলতা দরকার, বর্তমান প্রশাসন সেটা শতভাগ নিশ্চিত করার পরেই সমাবর্তন আয়োজনের ব্যাপারে ভাববে। 

মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬০.৯৭ শতাংশ
  • ০৬ আগস্ট ২০২৬
অনিয়মের অভিযোগে বাংলাদেশ বিমানের সব পদোন্নতি স্থগিত করল মন্…
  • ০৬ আগস্ট ২০২৬
১১ দলের ৫ কর্মসূচি, ঢাকা থেকে চার বিভাগে লংমার্চ ঘোষণা
  • ০৬ আগস্ট ২০২৬
টুঙ্গিপাড়ায় ‘৩৬ জুলাই’ স্মারক তোরণে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলা
  • ০৬ আগস্ট ২০২৬
৫ দফা দাবিতে জবি উপাচার্যের কাছে জাতীয় ছাত্রশক্তির স্মারকলি…
  • ০৬ আগস্ট ২০২৬
ধর্মীয় অনুশাসন মেনে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমেছে ৪৩ শতাংশের
  • ০৬ আগস্ট ২০২৬