খুবির বিজয় ২৪ হল
পানির সংকটে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা © টিডিসি ফটো
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ২৪ হলে কয়েকদিন ধরে পানি সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা, এক ব্লকে পানি থাকলেও অন্য ব্লকে তা মিলছে না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলে পানির এ সমস্যা নতুন নয়। গত কয়েক মাস ধরে তা চললেও সাম্প্রতিক সময়ে সংকট তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে খাবার পানির সংকটে অন্য হল থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের।
হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক-দুই মাস ধরে উত্তর ও দক্ষিণ ব্লকের একটিতে পানি থাকলে অন্যটিতে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে গত কয়েকদিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কখনো কখনো দুই ব্লকেই পানি না থাকায় শিক্ষার্থীদের অপরাজিতা হলসহ আশপাশের স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
বিজয় ২৪ হলের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জুহি বলেন, ‘দুইটা ব্লকেই দেখা যায় যে একটা ব্লকে পানি থাকলে আরেকটা ব্লকে পানি থাকে না। আবার খাওয়ার পানি তো বেশি সমস্যা হয়, এরকমও হয়েছে ওয়াশরুমের পানি পর্যন্ত থাকে না।’
তার ভাষ্য, পানি সরবরাহের সমস্যা সমাধানে মিস্ত্রি এসে কাজ করলেও কিছুদিন পর আবার একই সমস্যা দেখা দেয়। কোনো কোনো ফ্লোরে তিন-চার দিন পর্যন্ত খাবার পানি না থাকার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি। তখন অন্য ফ্লোর, অপরাজিতা হল কিংবা বাইরে থেকে পানি এনে ব্যবহার করতে হয়।
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী প্রমি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে আমাদের হলে খাবার পানির প্রচুর সমস্যা হচ্ছে। এক পাশের বিল্ডিংয়ে খাবার পানি পাওয়া গেলেও অন্য পাশে পানি পাওয়া যাচ্ছে না।’
গতকাল পানির ফিল্টার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুরো হলে খাবার পানি পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। এতে অপরাজিতা হল থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়েছে বলে জানান এই শিক্ষার্থী।
হলের আরেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস ধরে পানি সরবরাহে সমস্যা চলছে। বর্তমানে পানি আসার এক-দুই ঘণ্টা পরই আবার চলে যাচ্ছে এবং কখনো কখনো এক সপ্তাহ, এমনকি দুই সপ্তাহেও স্বাভাবিক হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন। দুই দিন আগে কোনো ব্লকেই পানি না থাকায় শিক্ষার্থীদের বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট সেলিনা বেগম বলেন, ‘মেইন সমস্যা হচ্ছে লোক বেশি। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি ওঠার আগেই পানি খরচ হয়ে যাচ্ছে।’ তবে পানির যান্ত্রিক সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রভোস্ট আরও জানান, গত দুই দিন মিস্ত্রি এসে কাজ করেছেন। কিন্তু কাজ শেষ করার পরের দিন আবার সমস্যা দেখা দিয়েছে। মিস্ত্রি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের লোকবল সংকটের কারণেও কাজ সম্পন্ন করতে দেরি হচ্ছে বলে তিনি জানান।
শিক্ষার্থীদের সাময়িক ভোগান্তির বিষয়ে প্রভোস্ট বলেন, আগের রাতে পানির সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে আবার একটি অংশে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সমস্যাটি স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার ব্যবস্থা করতে বলেছেন এবং পরদিন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু খাবার পানি নয়, কখনো কখনো ব্যবহার ও শৌচাগারের পানিও না থাকায় তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুত সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান এবং নিয়মিত নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।