১ বছরেও হয়নি বিচার, মেলেনি ক্ষতিপূরণ— ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার বিচার চেয়ে কাঁদলেন বাবা

১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ PM , আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ PM
ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার বিচার চেয়ে বাবার সংবাদ সম্মেলন

ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার বিচার চেয়ে বাবার সংবাদ সম্মেলন © টিডিসি ফটো

আমার বিরাট ক্ষতি করে ফেলেছে তারা। আমার একমাত্র পুত্র সাজিদ আব্দুল্লাহ, আমার ছেলেটা শান্ত, ভদ্রই ছিলো। তাকে ওরা নির্মমভাবে মেরে ফেলেছে। আমি অনেক সময় কথা বলতে গিয়েও বলতে পারি না। আমি এই হত্যার বিচার চাই। যারা প্রশাসনে রয়েছেন, আপনারা পদক্ষেপ নিলে এটা দ্রুত সম্ভব। 

এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার চাইলেন সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ দেলওয়ার। 

রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি ক্যাফেটেরিয়ার শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুত্র হত্যার বিচার চান তিনি। এসময় তার সাথে সাজিদের চাচা, দুলাভাই ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ দেলওয়ার বলেন, সাজিদের কার সাথে কী শত্রুতা হয়েছে আমাকে ভালোভাবে কেউ বলেও নাই, জানায়ও নাই। জানালে হয়ত আমি তার যে সংশোধন প্রয়োজন করতে পারতাম, কিন্তু আমাকে সেই সুযোগও দেয় নাই খুনিরা। তারপরেও এক বছর পার হয়ে গেল, এখনো কেন বিচার পাচ্ছি না, এটা বুঝতে পারছি না। দ্রুত তদন্ত করে আমার ছেলে হত্যার বিচার দাবি করছি। খুনিদের চিহ্নিত হওয়া দরকার। বর্তমান প্রশাসন আরও আন্তরিকভাবে খোঁজ নিলে এত দেরি হওয়ার কথা না। এখন পর্যন্ত কেন খুনিদের চিহ্নিত করা হলো না, এটা প্রশ্ন রয়ে গেল।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন ওয়াদা দিয়েছিল যে সাজিদের নামে একটা হল নির্মাণ করা হবে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা সবাই আন্দোলন করে এটা দাবি করেছিল। আমার তো অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটা ফোনও পেলাম না। প্রশাসনের ওয়াদা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণটা তাদের দেওয়া দরকার, যেটা আমি মনে করি। বুয়েটের ছাত্র আবরারের নামে হল হয়েছে, আবরারের নামে হল হোক, সেও নির্যাতিত। কিন্তু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাজিদ আব্দুল্লাহর নামে একটা হল এখনো নামকরণ করা হলো না? কেন হলো না, এটা আমার একটা প্রশ্ন। সে তো এখানকারই ছাত্র ছিলো। 

সাজিদের বাবা বলেন, আমার মূলত দাবি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা। বিচার না হওয়ায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ম্যাডামকেও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রশাসনের আছে, এই বিষয়টাও প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। আর যেন কোনো মায়ের বুক খালি না হয়। আমার সাজিদ আব্দুল্লাহ জুলাই যোদ্ধা ছিল। ন্যায় ইনসাফের কথা, জাস্টিসের কথা বলেই সে স্বৈরাচারকে হটানোর আন্দোলন করেছে। শিক্ষার্থীরা যদি তাদের আন্দোলনটাকে আরও শক্তিশালী করে, তাহলে বিচার সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের পুকুর থেকে আল কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহর ভাসমান লাশ উদ্ধার করে শিক্ষার্থীরা। প্রথমে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ধারণা করা হলেও ফরেনসিক রিপোর্টে জানা যায়, সাজিদকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তারপর থেকেই সাজিদ হত্যার বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে আন্দোলন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু বছর পেরোলেও এখনো সাজিদ হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন হয়নি, ধরা পড়েনি সাজিদের খুনিও। 

গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদার, মাঠে যৌথ বাহিনী
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
সমকামী প্রেমিক যৌনকর্মীর কাছে যাওয়ায় হত্যা, কেটেছিলেন আরেক …
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়াটাও একসময় কঠিন হয়ে যাবে: বিদ্…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
উচ্চশিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে আধুনিক রিসোর্স বুক ও ডিজিটাল কন…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমি মেলবন্ধনে বেকারত্ব কমবে: ইউজিসি সদস্য ম…
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬
মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের চাকরিতে বৈষম্য ও হয়রানি বন্ধের দাবি
  • ১৪ আগস্ট ২০২৬