হাবিপ্রবির প্রশাসনিক পদ থেকে ৭ শিক্ষকের পদত্যাগ

দিনাজপুরে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা সাত শিক্ষক তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি জানান।

পদত্যাগপত্র জমাদানকারী সর্বশেষ চার শিক্ষক হলেন সহকারী প্রক্টর সৌরভ পাল চৌধুরী, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের সহাকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সহকারী হল সুপার মো. ফরিদুল্লাহ, ডরমেটরি-২ এর সহকারী হল সুপার শক্তি চন্দ্র মন্ডল ও ডরমেটরী-১ এর সহকারী হল সুপার মো.জিয়াউল হাসান। এর আগে পদত্যাগ পত্র জমা দেন সহকারী প্রক্টর ডা. মো. মাহমুদুল হাসান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের সহকারী পরিচালক  ডা. মো. হায়দার আলী ও ডা. মোসা. মিসরাত মাসুমা পারভেজ ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর কর্তৃক সহকারী পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা) পদে নিয়োগ পেয়ে দায়িত্বশীলতার সাথে উক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু কিছুদিন যাবৎ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বর্তমান প্রশাসন বিভিন্নভাবে পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। যার কারণে উক্ত পদে আমি দায়িত্ব পালনে বিব্রতবোধ করছি। এমতাবস্থায় আমি পদত্যাগ করতে আগ্রহী। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি। একই অভিযোগে পদত্যাগপত্র রেজিস্ট্রার বরাবর অন্যান্য শিক্ষকরাও দিয়েছেন।

পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিপ্রবির সহাকরি প্রক্টর সৌরভ পাল চৌধুরী বলেন, প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম হাবিপ্রবিতে ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদানের পর আমরা কতিপয় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকবৃন্দ সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত ভিসিকে সহযোগিতা করার জন্য সার্বিকভাবে এগিয়ে আসি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে সহযোগিতা করি। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন নিয়োগে আঞ্চলিকতামূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করি।

তিনি বলেন, প্রশাসনে জামায়াতীকরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল স্তরে জামায়াতপন্থীদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং প্রকৃত আওয়ামীপন্থীদের নিগৃহ ও নিস্পেষিত করায় আমরা বারবার প্রতিবাদ করি। কিন্তু ভাইস চ্যান্সেলর এগুলো কর্ণপাত না করে একটি বিশেষ এলাকার বিশেষ করে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের স্বার্থ বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। মূলত এসব কারণেই আমরা পদত্যাগ করছি।

পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো. ফজলুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে ওই ৭ শিক্ষক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের সবার লেখার ধরণ একই। প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকাকালীন সময়েও তারা প্রশাসনকে তেমন কোন সহযোগিতা করিনি বরং বিভিন্ন সময়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে ।

আঞ্চলিকতার যে কথা তারা বলছেন তা কীসের ভিত্তিতে বলছেন তা আমার বোধগম্য নয়। সাবেক প্রশাসনের আমলে যে ৫৭ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে তার মধ্যে ৪৩ জনের বাড়ি বৃহত্তর দিনাজপুরের (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়)। আর এই প্রশাসনের আমলে ২০১৮ সালে ১৪ জন গাড়ি চালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে; যার ১৩ জন দিনাজপুরের ১ জন গাইবান্ধার। ২০১৯ সালের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ যাদের দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে বৃহত্তর দিনাজপুর থেকে শিক্ষক পদে ৮ জন, কর্মকর্তা পদে ১২ জন, কর্মচারী পদে ১৭ জন। বৃহত্তর রংপুর (রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম) থেকে শিক্ষক পদে  ১২ জন, কর্মকর্তা পদে ৯ জন কর্মচারী পদে ১ জন। অন্যান্য জেলা থেকে শিক্ষক পদে ১২ জন, কর্মকর্তা পদে ১ জন, কর্মচারী পদে ১ জন।

আনসার ব্যাটালিয়ন অফিস কমপাউন্ডে ককটেল বিস্ফোরণ
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
সরকারের ঋণ নিয়ে ঢাবি অধ্যাপকের ছড়ানো তথ্য সঠিক নয়
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
‘নির্ধারিত সময়ের আগে সরকারি বাসা ছেড়েও মিডিয়া ট্রায়ালের শিক…
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
শেরপুরে সেই জামায়াত নেতা হত্যার ঘটনায় মামলা
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
‘শহীদের মায়ের আবেগকে অবমাননা অমানবিক ও নিন্দনীয়’
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
জুলাইয়ে শহীদ সাংবাদিক মেহেদির বাবাকে মারধর, অভিযোগ বিএনপির …
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬