বিজয়-২৪ হল © টিডিসি ফটো
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলে ছাদে ওঠাকে কেন্দ্র করে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও চড় মারার অভিযোগ উঠেছে সিনিয়রদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হলের ছাদে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন— ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ আরাফাত (লোক প্রশাসন), পারভেজ সরকার ও আশরাফুল ইসলাম (মার্কেটিং)। অন্যদিকে অভিযুক্তরা হলেন— ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের কাজী তাহসিন, রোহিত পাল (ইংরেজি), সুমিত সরকার (বাংলা) এবং ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তুহিব মাহমুদ ও জুবায়ের জোয়াদ্দার বর্ষণ (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা)।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে তিন জুনিয়র শিক্ষার্থী হলের ছাদে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা সেখানে গিয়ে ‘কার অনুমতিতে ছাদে উঠেছিস’— এমন প্রশ্ন তুলে তাদের ওপর চড়াও হন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় আধাঘণ্টা ধরে তাদের মা-বাবা তুলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়, যা মূলত তথাকথিত ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে মানসিক নির্যাতন।
পরবর্তীতে বিষয়টি সিনিয়রদের জানাতে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, কথা বলার সময় জুবায়েরকে ‘ভাই’ সম্বোধন না করার অজুহাতে তুহিব মাহমুদ ভুক্তভোগী আরাফাতকে চড় মারেন। এ সময় আরও প্রায় ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থী ভুক্তভোগীদের ধাওয়া করে হলের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিয়ে গিয়ে আক্রমণের চেষ্টা চালান। পরে অন্য সিনিয়রদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পারভেজ সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের এমন জঘন্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে, যা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে উচ্চারণ করা সম্ভব নয়।”
অভিযুক্তদের মধ্যে তুহিব মাহমুদ চড় মারার বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি সে সময় টুর্নামেন্ট নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা চড় মারার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অন্য অভিযুক্ত জুবায়ের ও সুমিত সরকার গালিগালাজের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, তারা শুধু পরিচয় জানতে চেয়েছেন এবং এটি কোনো র্যাগিং নয়।
এ বিষয়ে হলের বড় ভাই হিসেবে পরিচিত সাইফ হাসান জানান, তিনি উভয় পক্ষের সাথে কথা বলেছেন তবে তথ্যে গরমিল পাওয়ায় প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, “আমরা মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। গত রাতেই হাউস টিউটররা বিষয়টি নিয়ে বসেছিলেন। পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বর্তমানে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।