জবি সাংবাদিক সমিতিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা ও বন্ধ সিসিটিভি © টিডিসি সম্পাদিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাংবাদিক সমিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে সমিতিতে অবস্থানরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের ১০ সাংবাদিক গুরুতর আহত হন।
তবে হামলার ঠিক আগমুহূর্তে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের তিনটি সিসিটিভি ছাড়া ক্যাম্পাসের সব সিসিটিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সাংবাদিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমি তাৎক্ষণিক আইটি পরিচালককে বলেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন এটি টেকনিক্যাল সমস্যা হয়েছে।
এ বিষয়ে আইটি পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে আইটির টেকনিশিয়ান সৈকত বলেন, আমি শুনেছি ফাইবার তার কেটে যাওয়ায় সকল সিসিটিভির সংযোগ লাইন কেটে যায়।
আরেক টেকনিশিয়ান শামিম বলেন, ‘হঠাৎ করে দুপুর একটার কিছুক্ষণ পরে ক্যম্পাসের সকল সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যায়। পরে আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্রাউন্ডে সিসিটিভি মূল ফাইভার কেটে দেওয়া হয়েছে। এখন তা ঠিক করার চেষ্টা করছি।’
এর আগে দুপুরে হামলা শুরুর আগ মুহুর্তে শুধুমাত্র উপাচার্য দপ্তরের সিসিটিভির ফুটেজ ব্যতিত ক্যম্পাসের সকল সিসিটিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদলের একাধিক সূত্র জানায়, হামলা শুরুর আগে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার আইটি দপ্তরে গিয়ে আইটি পরিচালকের সহায়তায় ক্যম্পাসের সকল সিসিটিভি বন্ধ করে দেয়। বন্ধ করার পরই সমিতিতে হামলা শুরু করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় সুপার ফাইভসহ সবাই সমিতির অফিস ভবনের নিচে অবস্থান নিয়ে শতাধিক নেতাকর্মীদের ওপরে পাঠায়।
এ বিষয়ে সাংবাদিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক মাহতাব লিমন বলেন, ‘সমিতিতে হামলার পর আমি উপাচার্যের কার্যালয়ে গেলে সেখানে থাকা স্কিনে দেখতে পাই ক্যাম্পাসের সকল সিসিটিভির ফুটেজ বন্ধ। তখনই আমি উপাচার্য স্যারকে জিজ্ঞেস করি সিসিটিভির ফুটেজ কেন বন্ধ। তখন উপাচার্য কোনো সদূত্তর দিতে পারেননি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম সমিতিতে হামলার কিছুক্ষণ পূর্বেই ক্যম্পাসের সকল সিসিটিভি বন্ধ করা হয়। তার মানে আমরা কি ধরে নিতে পারি, সমিতিতে এ হামলার ঘটনায় প্রশাসনেরও কেউ কেউ জড়িত ছিলো?’
উল্লেখ্য, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে গত ২৬ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সদস্য আহ্বান করা হয়। পরবর্তীতে ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. আন্ওয়ারুস সালাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার মো. রাশিম মোল্লাকে নিয়ে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গত ২ মার্চ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে কমিশন। এরই অংশ হিসেবে আজ মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে গত কয়েকদিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। কিন্তু কমিশন সব চাপ উপেক্ষা করে সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিলে আজ দুপুরে ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী সমিতির কার্যালয়ে এসে অবস্থানরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।