জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ববি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৬ AM
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ববি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ববি শিক্ষার্থীদের ভাবনা © টিডিসি ফটো

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দেশের পটভূমি পরিবর্তনের পর সবচেয়ে আলোচিত বিষয় 'ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হবে?' অবশেষে সব অবকাশ কাটিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনী হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে শহরের অলিগলি থেকে গ্রামগঞ্জের আনাচে কানাচে। এর ঢেউ লেগেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও, যার ব্যতিক্রম নয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)।

নির্বাচন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আজ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে। এ সুযোগে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। সেসব শিক্ষার্থীরা নির্বাচন সম্পর্কে তাদের ভাবনা ও প্রত্যাশা জানিয়েছেন ‘দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস’কে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ভিকারুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন হওয়া উচিত। আশা করি, এই নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবে।

তিনি বলেন, আমরা তরুণ প্রজন্ম চাই উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ। তাই নির্বাচন যেন স্বচ্ছ ও ন্যায্যভাবে সম্পন্ন হয় এটাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আমার প্রত্যাশা। আর জীবনে প্রথম ভোট দেওয়ার আনন্দ ও নির্বাচনকে উপভোগ করার জন্যই ছুটির আগেই বাড়ি চলে আসলাম।

তবে নির্বাচন নিয়ে শুধু উৎসাহই নয়, কিছু শিক্ষার্থীর মাঝে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কাও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম মতাদর্শী শিক্ষার্থী এডিসন বৈদ্য বলেন, ৫ই আগস্টের পরে প্রথম নির্বাচন, প্রত্যাশা জায়গা অনেক বেশি। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এটা নিয়ে বড়ো ধরনের শঙ্কায় আছি। তারপরও যারা নির্বাচিত হবে তাদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে যারা বাংলাদেশকে ঢেলে দারুণ করে সাজাতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, মানুষের নিরাপত্তার জায়গাটুকু যারা নিশ্চয়তা দিতে পারবে, মানুষের মৌলিক অধিকার ও মৌলিক চাহিদাগুলার যারা নিশ্চয়তা দিতে পারবে, সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিক কৃষকের পক্ষের শক্তি হিসেবে কাজ করবে। তরুণ প্রজন্ম অন্তত তাদেরকেই বেছে নিবে। বিপরীতে যারা মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করতে চায়। নারী নেতৃত্বকে যারা শূন্যের কোটায় আনতে চায়, কর্মজীবী নারীদের যারা খারাপ শব্দ দিয়ে সংজ্ঞায়িত করতে চায়, তরুণ প্রজন্ম অন্তত তাদেরকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।

ভোলা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো.ফয়সাল বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামল থেকে স্বৈরশাসকের পতনের মধ্যে দিয়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছি। নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনে গণতান্ত্রিক অধিকার  ও বাক্‌স্বাধীনতা নিশ্চিত করে সাম্য, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই, আমাদের চাওয়া। যেখানে আর কোনো স্বৈরশাসক কিংবা ফ্যাসিবাদের জন্ম নেবে না। বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের অন্যতম ধারা হচ্ছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে নির্বাচন।

তিনি বলেন, এই নির্বাচন নিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের পর আমাদের আশা আকাঙ্ক্ষা আরো বেড়ে গেছে। কারণ ফ্যাসিবাদী আমলে আমরা গণতান্ত্রিক অধিকারে ভোট দিতে পারিনি। এখন সময় এসেছে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের। যেখানে সবাই সবার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবে, কেউ ভোট দিতে গিয়ে হয়রানি হবে না, কিংবা কোনো দলীয় প্রভাব থাকবে না।

ফয়সাল বলেন, আমি মনে করি, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতা বদলের প্রক্রিয়া নয়, বরং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনর্গঠনের সুযোগ। যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে সবাই ভোটে অংশগ্রহণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।

গণ অধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মীর এনসিপিতে যোগদান
  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আলী মামুদকে প্রেস ক্লাবে অচেতন অব…
  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য কাউকে আর জীবন দিতে হবে না: সালাহউ…
  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম-১৩ আসনে তিন প্রার্থীর লড়াইয়ে জমে উঠেছে মাঠ
  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইনোভেশনের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সম্ভব: এনইউবি ভিসি
  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজশাহীর ৬ আসনে ভোটযুদ্ধ, নাগরিকদের দীর্ঘশ্বাস ও প্রার্থীদে…
  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
X
APPLY
NOW!