নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবহেলা-অযত্নে নজরুল ভাস্কর্য

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৮ PM
কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাস্কর্য

কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাস্কর্য © টিডিসি ফটো

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সগর্বে দাঁড়িয়ে থাকা কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাস্কর্যটি বর্তমানে অযত্ন ও অবহেলার চিত্র বহন করছে। ভাস্কর্যের গায়ে জমে আছে পাখির বিষ্ঠা ও ধুলাবালির আস্তরণ, নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে ক্রমেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে ভাস্কর্যটির সৌন্দর্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাস্কর্য চত্বরের চারপাশে কিছুটা নজরদারি থাকলেও মূল ভাস্কর্যের রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে ঘাটতি। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় ভাস্কর্যের গায়ে পাখির বিষ্ঠা লেগে প্রলেপের মতো স্তর তৈরি হয়েছে। এছাড়াও ধুলাবালির আস্তরণ জমে ভাস্কর্যের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য ও নান্দনিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কবি নজরুল ১৯১৩-১৪ সালের সময়ে এই ত্রিশালে এসে কিছুকাল ছিলেন। তার শৈশব স্মৃতি এখানে জড়িয়ে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সাথেও এই বিষয়টি জড়িত। ২০০৫ সালের ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছিলেন প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী ২৫ টি বিভাগে পড়াশোনা করছেন। 

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ও নজরুল গবেষক ড. মো. সাহাবউদ্দিন বলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুর তিন দশক পর ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার নামাপাড়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। নজরুল তার বৈচিত্র্যময় জীবনের একটি বছর কাটিয়েছেন ত্রিশালের এই নামাপাড়ায়। সেই স্মৃতির প্রতীক হিসেবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রস্থলে স্থাপন করা হয়েছে কবি নজরুলের দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য। তবে ভাস্কর্যটিকে ঘিরে সচেতনতার ঘাটতি ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কিছুটা অভাব রয়েছে। জাতীয় কবির স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে এই ভাস্কর্যটি যাতে যথাযথ মর্যাদা, সুষ্ঠু সংরক্ষণ ও নিয়মিত পরিচর্যার আওতায় আসে, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সিফাত শাহরিয়ার প্রিয়ান বলেন, জাতীয় কবির নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি নজরুলের স্মৃতি ও উত্তরাধিকারের প্রতীক। সাহিত্যে, সংগ্রামে ও মানবিক চেতনায় কবি নজরুল যেমন সময়ের পর সময় প্রাসঙ্গিক হয়ে আছেন, তেমনি তার স্মারক হিসেবে স্থাপিত ভাস্কর্যটিও উজ্জ্বল ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুলের ভাস্কর্য দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসেন। কবির স্মৃতিচিহ্ন দেখে তারা যেন মুগ্ধ হন এবং নজরুলের চেতনার সঙ্গে সংযোগ অনুভব করতে পারেন, সে জন্য ভাস্কর্যটির নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ জরুরি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধন কমিটির আহ্বায়ক এবং প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধন খাতে আলাদাভাবে কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। তবুও নির্দিষ্ট সময় পর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান ও স্থাপনাসমূহ বিভিন্নভাবে সংস্কার এবং সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হয়। নজরুল ভাস্কর্যের বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই …
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
তামিম ইকবালকে চ্যালেঞ্জ করলেন আসিফ
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
চীনের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলীদের পতাকা ওড়ানোর স…
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
ইসলামের দৃষ্টিতে খেলাধুলার মূলনীতি নিয়ে যা বললেন ড. আবু ইউছ…
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
সুবিধাবঞ্চিতদের শিক্ষালয়ে শিক্ষার নতুন উদ্যম
  • ২০ আগস্ট ২০২৬
বিএড স্কেলের শর্ত শিথিল করে ১০ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডের …
  • ২০ আগস্ট ২০২৬