বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনের করিডরে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয় © টিডিসি
‘অবারিত সম্ভাবনা নিয়ে জাগ্রত তারুণ্য’ স্লোগানকে সামনে রেখে দুই শতাধিক শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তারুণ্য’। এ সময় প্রায় শ খানেক শিশুর মধ্যে শীতবস্ত্র হিসেবে মোজা ও হুডি এবং শতাধিক প্রাপ্তবয়স্ক নারী পুরুষের মাঝে মোজা, কম্বল ও চাদর বিতরণ করা হয়।
আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনের করিডরে এ শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তারুণ্যের সভাপতি মুরসালিন ইসলাম তুরানের সভাপতিত্বে এবং মিম আক্তার ও মিরাজুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ হিমেল, সাবেক সহসভাপতি মিজানুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাবিহা বুশরা, সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক ফাইমুন নোমান ছাড়াও তারুণ্যের সুবাসিত সদস্যরা।
শীতবস্ত্র নিতে আসা এক বৃদ্ধা বলেন, ‘বাবাগো মোরা অনেক অসহায়। আবদালপুর থেকে আইছি। আমার ব্যাটারা যাইয়ে কয়ে আছিলো আজকে আসতি। আমাক এরা একটা কম্বল দিছে, একটা চাদর দিছে, আমার নাতির জন্যি জ্যাকেট কিনি দিছে। আমার খুব উপকার হইছে বাবা। আল্লাহর কাছে দুয়া করি ব্যাটা-বিটিদের জন্যি।’
তারুণ্যের সভাপতি মুরসালিন ইসলাম তুরান বলেন, ‘অসহায় দুস্থ মানুষের পাশে থাকা তারুণ্যের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রতিবারের ন্যায় আমরা চেষ্টা করেছি ক্যাম্পাস-সংলগ্ন গ্রামের গরিব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। আমরা শিশুদের জন্য মোজা ও হুডি এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য কম্বল, চাদর ও মোজা নিয়ে এসেছি। শীতার্ত এই মানুষদের মধ্যে উষ্ণতা ছড়িয়ে দিতে যারা সহযোগিতা করেছে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘তারুণ্যের সদস্যরা নিজেদের পড়ালেখার পাশাপাশি যে উদাত্ত মানবিকতার কাজ করছে তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তারা ক্যাম্পাসে ভেতরে ও বাইরে যে সমানভাবে কাজ করে তা আজকের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে। এটি আসলে শীতবস্ত্র নয়, এটি হচ্ছে তাদের পক্ষ থেকে উপহার। এসব কাজে তাদের কোনো স্বার্থ নেই। তারা কোনো ফিডব্যাক চায়না বরং চায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। একটি পরিবারের যেমন সন্তান তার অভিভাবকদের উপহার দিয়ে থাকে, আজকের এই কার্যক্রমও তেমনই। সচেতন নাগরিক হিসেবে তারা যে কাজ করছে, এটি ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করছি।’