কৃষ্ণচূড়া, সোনালু, রক্তচন্দন সহ বাহারি রকমের ফুলের রঙ্গে রঙ্গিন হয়ে উঠেছে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস । সুশোভিত এই ফুলের অপরূপ সৌন্দর্যে মন মাতোয়ারা সবাই । পুলকিত চিত্তে এই ফুলকে হৃদয়ের ফ্রেমে বন্দী করে রাখতে চলে সেলফি তোলার হিড়িক । ফুলগাছের আশেপাশে থাকে প্রেমিক- প্রেমিকার আনাগোনা ।
ফুলকে ভালোবাসে না এই রকম মানুষ পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া কঠিন । ফুলের প্রতি সবারই একটা দুর্বলতা আছে । ফুল হচ্ছে সৌন্দর্যের প্রতীক আর মানুষ হচ্ছে সৌন্দর্যের পূজারী । যে মানুষের মন পাথরের চেয়েও কঠিন তাকেও সৌন্দর্য আকর্ষিত করে ।
হাবিপ্রবি ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসজুড়ে জারুল, কৃষ্ণচূড়া, সোনালু, নয়নতারা, রক্তচন্দন, ঘাসফুলসহ নাম না জানা হরেক ফুলের সমারোহ।মোহনীয় ফুলের সুবাস, হরেক ফলের বৃক্ষরাজি, পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হাবিপ্রবি ক্যাম্পাস । প্রতিদিন প্রকৃতির সুশোভিত ও অপরূপ সৌন্দর্যের সুরা পান করতে ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসে সব বয়সের হাজারও মানুষ। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা। প্রকৃতির টানে ব্যস্ত সময়ে একটু অবসরের প্রয়োজনে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসছেন এ ক্যাম্পাসে।
.jpg)
যখন চারদিকে গ্রীষ্মের খাঁ খাঁ রৌদ্দুরে প্রাণ ও প্রকৃতি প্রখর পুড়ছে। তখন এ ক্যাম্পাসের বড় বড় গাছের ফুল জানান দেয় সৌন্দর্যের বার্তা। গ্রীষ্মের এ প্রাণহীন রুক্ষতা ছাপিয়ে প্রকৃতিতে নিজেকে মেলে ধরে আপন মহিমায়। যেন বিভিন্ন রঙয়ের হাজারও ফুল পসরা সাজিয়ে বসে আছে প্রকৃতি। যে কারও চোখে এনে দেবে শিল্পের দ্যোতনা, অবাক চোখে তাকিয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করে সবাই। মন ছুঁয়ে রঙিন হয়ে যায়। যেন মনের অজান্তেই স্বভাব কবি হয়ে যায় সে।
ডিভিএম শিক্ষার্থী মোস্তাফিজ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ক্যাম্পাসের এ রূপ দেখে মন আনন্দে ভরে ওঠে । শিক্ষা ও প্রকৃতি একে অপরের সঙ্গে নিবীড়ভাবে সম্পৃক্ত। ফুলের মন মাতানো রূপ আর প্রকৃতির স্পর্শেই শিক্ষা যেন পূর্ণতা লাভ করে। ক্যাম্পাসের প্রকৃতিতে রক্তিম কৃষ্ণচূড়া নতুনত্ব এনে দিয়েছে। দেখে মনে হবে লাল-সবুজের অভ্যর্থনা দিতে দাঁড়িয়ে আছে গাছটি। কৃষ্ণচূড়ার ঝড়ে পড়া পাপড়ি দেখে মনে হয় যেন এক পুষ্পশয্যা।
কৃষি বিভাগের সুমাইয়া আক্তার বলেন,ক্যাম্পাসে বড় বড় গাছগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ফুল ফুটেছে। ফুলগুলো দেখে মন জুড়িয়ে যায়। মনের ভেতরে অন্য এক অনুভূতির জন্ম দেয়। চারিদিকে কতো রং-বেরঙের ফুল। ফুলের গন্ধে যেন ক্যাম্পাসকে মাতিয়ে রাখে। এর মাঝে ক্যাম্পাসে কার না ঘুরতে ভালো লাগে! ক্যাম্পাস ছুটি হয়েছে ,এই রূপের নগরীকে ছেড়ে বাসায় যেতে হচ্ছে ভেবে কষ্ট লাগলেও দীর্ঘদিন পর বাসায় যাচ্ছি সেটি ভেবেও আনন্দ লাগছে ।বাসা থেকে ফিরে এসে যেন আবার এই সৌন্দর্য দেখতে পাই ।