খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কারকৃত ভবনের দেয়ালে ফাটল © সংগৃহীত
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) কবি জীবনানন্দ দাশ ভবন (৩ নং একাডেমিক ভবন) সংস্কারের এক মাসের মধ্যেই দেয়ালে ভেজাভাব ও রঙ উঠে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে কাজের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি ভবনের একটি কক্ষে দেয়ালে স্পষ্ট ভেজাভাব ও রঙ ফেঁপে ওঠার দৃশ্য ধরা পড়ে। এই বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদউল্লাহ রেজা বলেন " সংস্কার কাজ শেষ হতে না হতেই ক্লাস রুমের দেয়ালের রং উঠে যাচ্ছে, দেয়ালে ফাটল দেখা যাচ্ছে। এই ধরনের মানহীন সংস্কার আমরা আশা করি না। অতি দ্রুত প্রশাসন কে এই ৩ নং একাডেমি ভবন কে পুনরায় সংস্কার করতে হবে।"
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া সংস্কার কাজ শেষ হয় ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। কাজটি বাস্তবায়ন করে খন্দকার আলি হায়দার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
ঠিকাদার আলি হায়দার জানান, ভেতরের কাজ শেষে বাহিরের কাজ শুরু হওয়ায় কিছু স্থানে সমস্যা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কিছু জায়গা ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে এবং নতুন অভিযোগ এলে তা দ্রুত ঠিক করা হবে।
প্রধান প্রকৌশলী এস এম মনিরুজ্জামান জানান, ১২ সদস্যের মান নিয়ন্ত্রক কমিটি এবং একজন ওয়ার্ক স্ট্যান্ড ম্যান কাজের উপকরণের গুণমান যাচাই করেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, “ক্লাস ও পরীক্ষার কারণে কাজ একাধিকবার বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ফলে ভেতরে ও বাইরে একসাথে কাজ করা সম্ভব হয়নি, আর বাহিরের কাজ চলার সময় পানি ভেতরে ঢুকে দেয়ালের ক্ষতি করেছে।”
মান নিয়ন্ত্রক কমিটির সদস্য এবং কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: শাহজাহান কবির বলেন, "কাজের চূড়ান্ত পরিদর্শন এখনো হয়নি এবং পুরো অর্থও ঠিকাদারকে পরিশোধ করা হয়নি। তিনি আরও জানান গুণগত মান নিশ্চিত হওয়ার পরই ঠিকাদারকে অর্থ পরিশোধ করা হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: রেজাউল করিম জানান, “প্রতিটি প্রকল্পের মান যাচাইয়ের জন্য কমিটি থাকে। মান যাচাই কমিটি যদি কোনো ত্রুটির রিপোর্ট দেন, তাহলে জামানতের ১০% টাকা দিয়ে ১ বছরের মধ্যে মেরামত করে দেওয়া হবে। আমি এই বিষয়ে মান যাচাই কমিটি কে দ্রুত রিপোট দেওয়ার জন্য বলবো ”