চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকা যাবতীয় মালামাল ছিনতাই যাওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আবুল হোসেন ও সরোয়ার আলম নামের দু’জনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে এক অভিযানে চবি প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে ওই দুজনকে আটক করে পুলিশ।
এর আগে দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে চালন্দা গিরিপথে ঘুরতে গিয়ে ফেরার সময় ১৫-১৬ সদস্যের একটি ছিনতাইকারী গ্রুপের কবলে পরে চবির নৃবিজ্ঞান, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা এবং ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী।
এসময় ছিনতাইকারীরা বন্দুক ও রামদার মুখে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, হাত ঘড়ি, ব্যাগ ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে ছিনতাইকারীদের রামদার আঘাতে ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
এদের মধ্যে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের আনোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনার পর বিকেল পৌনে ৪টার দিকে একটি অভিযানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর মো. আলী আজগর চৌধুরী, সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র, চট্টগ্রাম পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) আব্দুল্লাহ আল মাসুম, পুলিশ সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। সেখান থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে আবুল হেসেন ও সরোয়ার আলমকে আটক করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) আব্দুল্লাহ আল মাসুম জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করেছি। তারা এ ঘটনার সাথে জড়িত কি না, কিংবা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা আছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।।
প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি শোনার পর আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
তিনি বলেন, আ্যডভেঞ্চার ঠিক আছে, কিন্তু এরকম অনিরাপদ একটা জায়গায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন হয়ে যাওয়া উচিত। এখানে যেকোনো সময় যে কারো হাত পা ভেঙে যেতে পারে এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।