© ছবি: প্রতীকী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশন এলাকার বেসরকারি একটি ছাত্রীনিবাসে ছাত্রীরা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। ছাত্রীনিবাসের নিরাপত্তারক্ষীর দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ওই ছাত্রীনিবাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ২৫-৩০ জন ছাত্রী থাকেন।
বিষয়টি নিয়ে এক ছাত্রীর অভিভাবক ফেসবুকে গত শুক্রবার একটি পোস্ট করেন। পোস্টটি ভাইরাল হলে অনেকেই নিরাপত্তারক্ষীকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তির দাবি জানান।
ফেসবুক পোস্টে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অভিভাবক জানান, তার মেয়ে ক্যাম্পাসের রেল স্টেশনের পাশের এক ছাত্রীনিবাসে থাকেন। দু-একদিন আগে ফোনে তার মেয়ে জানান, বাসার নিরাপত্তারক্ষী পাশের বাসার এক আপুকে যৌন নিপীড়ন করেছেন। বিষয়টি পরে বাড়ির মালিককেও জানানো হয়। কিন্তু বাড়ির মালিক বিষয়টি গুরুত্ব না দেয়ায় ওই অভিভাবক বাধ্য হয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা চান তিনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই অভিভাবক গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, মেয়ের কাছে অভিযোগ শোনার পর ওই বাড়িতে গিয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ছাত্রীরা জানিয়েছেন, আরও কয়েকজনকেও হয়রানি করেন ওই নিরাপত্তারক্ষী। পরে বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. ফরিদকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. ফরিদ গতকাল রাতে বলেন, গতকাল ওই নিরাপত্তারক্ষীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে।
এত দিন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন জানতে চাইলে মো. ফরিদ বলেন, ছাত্রীনিবাসে অনেকেই থাকেন। হুট করে নিরাপত্তারক্ষীকে বিদায় করে দিলে ছাত্রীরা পানির সংকটসহ নানা সমস্যায় পড়তেন। তাই নতুন আরেকজন নিয়োগ দেওয়ার পরপরই তাঁকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কেউ অভিযোগ করেননি। আপনাদের কাছ থেকে বিষয়টি জানলাম। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হবে। এরপর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ওই নিরাপত্তরক্ষীকে ছাঁটাই করার বিষয়ে ছাত্রীরা একটি লিখিত অভিযোগ করেছিল। অভিযোগ পাওয়ার পর বাড়ির তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।