বর্ষপূর্তি উদযাপনে প্রসপেক্ট অব বাংলাদেশের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

২৫ এপ্রিল ২০১৯, ০৭:০৪ PM
স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ।

স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ। © টিডিসি ফটো

২০১৮ সালের ১৩ এপ্রিল পথ চলা শুরু করেছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) সেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রসপেক্ট অব বাংলাদেশ। এ বছরের ১৩ এপ্রিল সংগঠনটির পূর্ণ হয় এক বছরের পথ চলা। সংগঠনটির সদস্যরা বলছেন, এটা একটা প্লাটফর্ম, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

গত ১৩ এপ্রিল নিজেদের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আরও একটি ইভেন্ট হাতে নেয় সংগঠনটি। গতকাল ২৪ এপ্রিল স্থানীয় শাহ মুনিরিয়া মঈনিয়া এতিমখানা ও হেফজখানার ১০০ দরিদ্র শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা সামগ্রী (খাতা, কলম, পেন্সিল, স্কেল, রাবার, শার্পনার, ফাইল) বিতরণের মধ্য দিয়ে নিজেদের বর্ষপূর্তি উদযাপন করে তারা।

সংগঠনটির সদস্য সাজ্জাদুল ইসলাম ফয়জুল বলেন, আমরা যেই শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছি, তাদের আজ থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। সেখানে এমন অনেক পেয়েছি, যাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছিলোনা। যেহেতু সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে আমাদের কার্যক্রম। তাই এবারের আয়োজনটা নিজেদের বর্ষপূর্তি উদযাপনকে ঘিরেই ছিলো। তিনি জানান, আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের শিশুদের নিয়ে কাজ করছি আমরা। ভবিষ্যতে আমাদের পরিসর আরও বড় হলে আমাদের সেবা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে।

এদিকে সংগঠনটির সাথে যুক্ত হয়েছে নবীন শিক্ষার্থীরাও। ২০১৮-১৯ শিক্ষা বর্ষের ওয়াহিদুজ্জামান প্রান্ত বলেন, সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে কাজ করার ইচ্ছা আগে থেকেই ছিলো। প্রসপেক্ট অব বাংলাদেশের কার্যক্রম ভালো লাগায় আমরা অনেকেই বছরের শুরু থেকে কাজ করছি এখানে। সংগঠনটির বেশকিছু ইভেন্ট আমরা দেখেছি। এর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজের কাছে ভালো লাগছে।

কথা বলছিলাম প্রসপেক্ট অব বাংলাদেশ এর আহ্বায়ক তাহলিল সাকিফের সঙ্গে তিনি জানান, গত এক বছরে আমরা দশটি ইভেন্ট করেছিলাম। যার মধ্যে ছিলো, একাধিকবার শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ। এছাড়া চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কুইজ, চিত্র প্রদর্শনী এবং শীতের সময় কম্বল বিতরণের মত ইভেন্টও আমরা হাতে নিয়েছি। আর সবগুলো ইভেন্ট বাস্তবায়ন হয়েছে সদস্যদের অনুদান দিয়ে। নিজেদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সদস্যদের প্রচেষ্টাই সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করছে আমাদের। কারণ, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই আমাদের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য। আমরা আশাকরি ধীরে ধীরে আমাদের এই পরিসর আরও বড় হবে। সবাই আমাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে আমাদের সঙ্গে কাজ করবে। আমরা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছি। পাশাপাশি মাদ্রাসার কিছু দরিদ্র শিক্ষার্থীকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করছি। গরীব, মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আমাদের।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের এপ্রিলে শুরু হয় সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন আহ্বায়কের সমন্বয়ে যার বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১০৭ জন। এর মধ্যে চুয়েট এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজেরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো স্পন্সর না থাকলেও কার্যক্রম থেমে নেই সংগঠনটির। সদস্যদের অনুদান আর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

এক চিত্রে সংগঠনটির বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম।

এছাড়া, শিশুদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণে যে অর্থ ব্যয় হয় সেটা আসে সংগঠনের সদস্যদের প্রতিদিনের তিন টাকার অনুদান থেকে। মাস শেষে এই সামান্য অর্থেই আরো কিছু সুবিধা বঞ্চিত শিশু পড়াশোনার স্বপ্ন দেখে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণের পর পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য পুরষ্কারের ঘোষণাও দেওয়া হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে। নিজেদের সাধ্যের মধ্যে আছে এমন কোনো সহযোগিতা করার মত থাকলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বলে আসেন স্মরণ করার জন্য। সেচ্ছাসেবীদের এমন সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দিনশেষে হাসি ফুটে কিছু সুবিধাবঞ্চিত শিশুকিশোরের মুখে।

নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে ছাত্রদলের সাবেক নেতার গাড়…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও প্র…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আইইউবি ও দৃষ্টি চট্টগ্রাম আয়োজিত ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিত…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিইউবিটির রিসার্চ উইক ২০২৬: উদ্ভাবনা ও গবেষণায় উৎকর্ষের সম্…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভাঙা ও পরিত্যক্ত টেবিলে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়েছে কুবিতে ভর্…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১২ তারিখ দেশের জনগণ চাঁদাবাজ ও নারী নিপীড়কদের লালকার্ড দেখা…
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬