আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ববি শিক্ষার্থীরা © টিডিসি ফটো
টানা ১৭ দিন আন্দোলনের মাথায় ব্যাক্তিগত কারণ দেখিয়ে ১৫দিনের ছুটিতে গেলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের এই ছুটি প্রত্যাখ্যান করে দাবি আদায়ে অনড় রয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন উপাচার্য পূর্ণ মেয়াদে ছুটিতে যাবেন, না হয় পদত্যাগ করবেন। অন্যথায় আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না শিক্ষার্থীরা।
পূর্বঘোষিত সিন্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার ছুটির দিনেও বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে প্রশাসনিক ভবনের নিচ তলায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষার্থীরা। এসময় উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান, প্রতিবাদী গান পরিবেশন করতে দেখা যায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন জানান, ভিসির পদত্যাগ অথবা পূর্ণ মেয়াদের ছুটির বিষয়ে লিখিত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের পথ থেকে পিছু হটার কোনো কারণ নেই। আজ ১৮ দিন ধরে আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচি চলছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
এর আগে পরপর দুদিন টানা মহাসড়ক অবরোধের কারণে অসুস্থ হয়েপড়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্য চারজনের অবস্থা গুরুতর হলে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, ২৬ মার্চ দুপুরে এক অনুষ্ঠানে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বললে ২৭ মার্চ থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের একপর্যায়ে ২৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সে নির্দেশ উপেক্ষা করে হলে অবস্থান করেন। পরে উপাচার্য এস এম ইমামুল হক তাঁর মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৬ এপ্রিল রাজনৈতিক নেতা, বিভাগীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠক হয়। বৈঠকের পর পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক জানান, উপাচার্যের পদের মেয়াদ দুই মাস আছে। এই সময় তিনি যাতে আর কর্মস্থলে না আসেন, সে জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ পাঠাবেন।এমতাবস্থায় ১০ ই এপ্রিল ব্যাক্তিগতকারণ দেখিয়ে ১৫ দিনের ছুটির জন্য আবেদন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড.এস এম ইমামুল হক। তবে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগ বা পূর্ণমেয়াদে ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি লিখিত দেওয়ার দাবিতে এখনো অটল।