‘নন্দিত স্বদেশ নন্দিত বৈশাখ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আসছে ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষকে (১৪২৬) বরণ করে নিতে জমকালো ও বর্ণিল সাঁজে সাঁজছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বর্ষবরণ উৎসবে নানান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বুধবার বিকাল ৪টায় চবি প্রক্টরের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের অনুষ্ঠানের সময় ও বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে জানান প্রক্টর অধ্যাপক আলী আজগর চৌধুরী।
তিনি বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে বর্ষবরণ উৎসব। শিক্ষার্থীরা এই উৎসব অত্যন্ত আনন্দের সাথে উপভোগ করে। তাই আমরা সুন্দর একটা আয়োজনের চেষ্টা করছি।
প্রক্টর অধ্যাপক আলী আজগর চৌধুরী বলেন, নববর্ষের দিন সকাল ৯ টায় ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে শহীদ আব্দুর হলের মাঠে এসে শেষ হবে। এরপর আব্দুর হলের মাঠে জাতীয় সঙ্গীত ও এসো হে বৈশাখ গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের এবং চবি পরিবারের অংশগ্রহণে একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশগ্রহণ করবে চবি মহিলা সমিতি, চবি সঙ্গীত বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এরপর থাকবে শিক্ষকদের রম্য বিতর্ক অনুষ্ঠান।
এছাড়া বিকালে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যে থাকছে জনপ্রিয় বাউল শিল্পী চিশতি বাউল ও তার দল এবং ব্যান্ডদল ‘মাকসুদ ও ঢাকা’। অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে থাকছে- চবির বুদ্ধিজীবী চত্বরে হাডুডু খেলা, উন্মুক্ত মঞ্চে নাটক, চাকসু প্রাঙ্গণে বউচি খেলা এবং চবির জারুল তলায় পুতুল নাচ ও লাঠিখেলা।
এসময় চবি প্রক্টর সাংবাদিকদের বলেন, পহেলা বৈশাখের দিন ক্যাম্পাসে যাবতীয় বহিরাগত যানবাহন নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া নির্দিষ্ট সাউন্ড সিস্টেম ছাড়া অন্য কেউ কোনো ধরনের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবে না। এছাড়া উচ্চ শব্দের বাঁশি, ভুভু খেলা, মুখোশ পরার বিষয়েও নিষিদ্ধের কথা জানান তিনি।
পহেলা বৈশাখের এ উৎসবের জন্য ৪৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি মূল কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, সমন্বয়ক হিসেবে আছেন চবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতার এবং সদস্য সচিব হিসেবে আছেন চবি প্রক্টর অধ্যাপক আলী আজগর চৌধুরী। এছাড়া অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য ১০টি সাব-কমিটিও গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে উৎসবের দিন পুলিশ, র্যাব, ডিজিএফআই, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি এবং রোভার স্কাউটসহ বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত থাকবে।
অনুষ্ঠান বিষয়ক এ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চবির সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, সঙ্গীত বিভাগের সভাপতি সুকান্ত ভট্টাচার্য, চবি সাংবাদিক সমিতি ও কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।