চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খ. আলী আর রাজী। © টিডিসি ফটো
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খ. আলী আর রাজীকে স্মারকলিপি পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালেয়ে চলমান আন্দোলন নিয়ে তার দেয়া এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামহানি, ছাত্র শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বরত শিক্ষকদের সম্মানহানি ও ছাত্রদেরকে সংঘাতে উস্কানি প্রদানের অভিযোগে এনে এ স্মারকলিপি দেয়া হয়। পাশাপাশি আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে. এম. নুর আহমেদ স্বাক্ষরিত এক স্মারকলিপিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্মারলিপিতে আরো বলা হয়, জনাব আপনি গত ০৪-০৪-২০১৯ তারিখ বিকাল ৪:১৫ ও ৪:১৬ মিনিট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক-এ আপনার দুটি একাউন্ট- ‘Ar Raji’ এবং ‘আর রাজী’ থেকে ‘গুন্ডামি করে বিশ্ববিদ্যালয় চালানো পাপ’ শীর্ষক একটি পোস্ট করেছেন যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ পোস্টটির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সাথে যুক্ত শিক্ষকদের সম্মানহানি করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা দমনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গৃহীত ব্যবস্থাকে ‘গুন্ডামি’ আখ্যায়িত করে আপনি প্রকারন্তরে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে গুন্ডামিতে লিপ্ত ছাত্রদের সহিংসতার পক্ষে উস্কানি দিয়েছেন যা চ.বি কর্মচারী (দক্ষতা ও শৃঙ্খলা) সংবিধি অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এমতাবস্থায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামহানি, ছাত্র শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বরত শিক্ষকদের সম্মানহানি ও ছাত্রদেরকে সংঘাতে উস্কানি প্রদানের অভিযোগে কেন আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না- তা আগামী ০৩(তিন) কর্মদিবসের মধ্যে জানানোর জন্য আদিষ্ট হয়ে আপনাকে অনুরোধ করা হলো।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ছয় কর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অস্ত্র মামলায় পুলিশে দেওয়ায় গত ৪ এপ্রিল নিজের ফেসবুক আইডিতে খ.আলী আর রাজী সে সম্পর্কে উক্ত পোস্ট করেন। পোস্টটি পাঠকদের সুবিদার্থে হুবহু তুলে ধরা হলো,
‘গুণ্ডামি করে
বিশ্ববিদ্যালয় চালানো পাপ
শিক্ষকতাকে যদি পেশা হিসেবে নিয়ে থাকেন তাহলে ছাত্রছাত্রীদের সাথে যুক্তি-তর্ক-বিচার-বিশ্লেষণ তথা শিক্ষিত জনের মতো জ্ঞানের ভাষায় সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। যদি তা না পারেন, যেটুকু পারেন সেটুকু দায়িত্ব রেখে বাকিটুকু ছেড়ে দেন।
কথায় কথায় নিজের ছাত্রছাত্রীর বিরুদ্ধে পুলিশ লাগিয়ে দেবেন, অস্ত্রমামলায় ফাঁসিয়ে দেবেন, ভয় দেখাবেন- এসব কোনো শিক্ষকের কাজ হতে পারে না। দোহাই আপনাদের, শিক্ষকের কলুষিত মর্যাদাকে আরও কালিমালিপ্ত কইরেন না।’