পুলিশ-ছাত্রলীগ মধ্যকার সংঘর্ষ © টিডিসি ফটো
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের ডাকা ধর্মঘটে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে চবি ক্যাম্পাস। রবিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ধর্মঘটে পথচারী, ৫ পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। এতে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। অন্যদিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে অন্তত পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া পথচারী সহ বিশ-পঁচিশজন ছাত্রলীগকর্মী গুলিবিদ্ধ ও লাঠিচার্জে আহত হয়েছে। এসময় ডিবি পুলিশের একটি কার ভাংচুর করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
সকালে নগরীর বটতলী স্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনের হোস পাইপ কেটে দেয় তারা। এছাড়াও এক লোকমাস্টারকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করেছে রেলওয়ে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে অবস্থানরত সকল বাসের চাকা অকেজো করে দেওয়া হয় ও সকল অনুষদের প্রধান ফটকগুলোতে সুপার গ্লু দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সকাল ৯ টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের আটককৃত ৬ নেতাকর্মীর মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ধর্মঘট পালন করে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট গেটে তালা দিয়ে অবস্থান করে তারা। এছাড়াও সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে রিক্সা, সিএনজিসহ সকল ধরণের গাড়ি চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সাড়ে এগারোটার দিকে পুলিশ জলকামান নিয়ে আসলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা স্থানত্যাগ না করলে ১১.৫০ মিনিটের দিকে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। একপর্যায় ঘটনা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এসময় ছাত্রলীগের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। একইসাথে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
ঘটনা পরবর্তী চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী এক জরুরী সভায় সাংবাদিকদের জানান, তাদের নামে যে অস্ত্রমামলা হয়েছে সেটা দেশীয় অস্ত্রের মামলা, আগ্নেয়াস্ত্র নয়। তারা বরং আগ্নেয়াস্ত্র মামলা হয়েছে বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এই মামলায় তাদের ছাত্রত্ব হুমকির মুখে পড়বে না। পুলিশ বাদী হয়ে যে মামলা করেছে সেটা তাদের জন্যই করেছে। তাদের দাবি অবশ্যই যৌক্তিক। তারা আমাদের কাছে এসে আলোচনা করতে পারতো। তারা সেটা করেনি। এ ধরণের পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কিভাবে নির্বিকার থাকবে। তারা অহিংস আন্দোলন করবে বললেও বিভিন্ন উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড করেছে।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি এনামুল হক আরাফাত বলেন, আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পালন করছিলাম। কিন্তু প্রশাসনের এমন বর্বরোচিত হামলায় আমরা হতবাক। আমরা জানতে চাই কাদের নির্দেশে এই পৈশাচিক হামলা করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনায় বসে জানাবো।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা পুলিশ সুপার মশিউদ্দৌলা রেজা বলেন, আমরা তাদের সমস্ত দাবিদাওয়া মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলাম। নেতাদের সাথে কথাও হয়েছিল। কিন্তু তারা আন্দোলন অহিংস রাখেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্রের উস্কানিতে এ ঘটনা ঘটেছে। তারা পুলিশের সাথে হাতাহাতি করে ঝামেলা বাঁধায়। আমাদের কয়েকজন সহকর্মী এতে আহতও হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক দুই গ্রুপ বিজয় ও চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ারের (সিএফসি) মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ৩ তারিখ উভয় গ্রুপের ৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন পুলিশ বাদী হয়ে তাদের নামে হাটহাজারী থানায় অস্ত্রমামলা দায়ের করে।
অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করে তাদের নামে অস্ত্রমামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তি, ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ছাত্রলীগের নামে সকল মামলা প্রত্যাহার, প্রক্টরের পদত্যাগ এবং হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীরের অপসারণ দাবি জানিয়ে রবিবার সম্মিলিতভাবে বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের এই দুটি পক্ষ।