মানববন্ধনে চবি শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ। © এ এইচ আজহার
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ক্রমেই ছিনতাই বেড়ে চলছে, ঘটছে শিক্ষার্থী লাঞ্ছনার ঘটনা। দর্শনীয় স্থানগুলোও অরক্ষিত হয়ে আছে। দীর্ঘদিন এহেন অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশের শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। চবি শিক্ষার্থীরা এবার এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা রোধ নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি এবং বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরে বহিরাগত নিষিদ্ধসহ ৭ দফা দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে।
রবিবার বেলা ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা ভাস্কর্যের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও চবি শাখা ছাত্রলীগ।
মানববন্ধনে ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘টেলিটক হিল ঝরনা, নিষেধাজ্ঞা আর না, আর না’ ‘ছাত্রবান্ধব প্রশাসন নাকি ছিনতাই বান্ধব প্রশাসন’ ‘এ ক্যাম্পাস কি তবে দস্যুদের?’ ‘প্রশাসনের চোখ বন্ধ কেন?’ এছাড়া বিভিন্ন লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও চবি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বক্তৃতা করেন। এসময় বক্তারা বলেন, আয়তনে দেশের সর্ববৃহৎ ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলো পরিদর্শন করতে গিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে। তাছাড়া বহিরাগতদের দৌরাত্মে অতিষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধন বক্তারা আরো বলেন, ২১০০ একরে যদি আমাদের নিরাপত্তা দিতে না পারেন, তাহলে এতো বড় ক্যাম্পাস আমাদের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে ১০০ একরের নিরাপদ ক্যাম্পাস করে দিন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা কিছু দাবি তুলে ধরেন,
১. ২১০০ একরে প্রতিটি শিক্ষার্থীর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
২. দর্শনীয় স্থানগুলো থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা।
৩. সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রগুলোর হোতাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা।
৪. ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা।
৫. মাদক, ইভটিজিং ও ছিনতাই প্রতিরোধে মনিটরিং টিম গঠন করা।
৬. আইডি কার্ডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
৭. সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো ও নিরাপদ ছাত্রজীবন নিশ্চিত করা।
এসময় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দাবি মেনে না নিলে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে চবি ক্যাম্পাসে ছাত্র আন্দোলনের বিস্ফোরণ ঘটবে। নিরাপত্তা দিতে না পারলে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের পদত্যাগ করারও দাবি জানান তাঁরা।