সম্প্রীতিই চবির পরিবহন সংকটের শেষ ভরসা!

© টিডিসি ফটো

শাটল ট্রেনের ক্যাম্পাস হিসেবেই বেশি পরিচিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। বর্তমানে পৃথিবীর একমাত্র শাটলের ক্যাম্পাস এই বিশ্ববিদ্যালয়। তাই শাটলের পরিচয়ে পরিচিত হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থীর বাহক এই শাটল ট্রেন। তবে জ্যামিতিক হারে এখানে প্রতিবছরই বাড়ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। শুধু বাড়েনি শাটল ট্রেন কিংবা ট্রেনের বগির সংখ্যা। তাই স্বপ্নের শাটলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিরও যেন অন্ত নেই। তাছাড়া  ভোগান্তি দূরীকরণেও নেই প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ।

তবে প্রতিনিয়ত এই ভোগান্তি কিছুটা লাঘব করতে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের ভিন্ন ভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়। এর মধ্যে শাটল ট্রেন সংস্কার, বগি বৃদ্ধির দাবি, ডাবল লেন তৈরী সহ পরিবহন সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন সময় আন্দোলন, স্মারকলিপি প্রদান উল্লেখযোগ্য। তবে কোনোকিছুতেই যেন প্রশাসনের টনক নড়ছে না। তাই এবারের উদ্যোগটা সম্প্রীতির। বেশ কিছুদিন থেকে শাটল ট্রেনে সম্প্রীতির একটি পোস্টার লক্ষ্য করা গেছে। টাঙানো পোস্টারটির এবারের বার্তা ছিলো, ‘শাটলে অর্ধেক পথ বসে, অর্ধেক পথ দাঁড়িয়ে যাই, সম্প্রীতি বাড়াই। আমরা চবিয়ান ভাই ভাই, এই পরিবর্তনটি চাই’।

সাধারণত এই ধরনের পোষ্টারের নিচে সৌজন্যে কিংবা উদ্যোগ গ্রহণকারীদের নাম অথবা পরিচয়ের বিষয়টি উল্লেখ থাকে। কিন্তু সম্প্রীতির পোস্টারে সেটা ছিলো না। কৌতূহলটা সেখানেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায় বাংলা বিভাগের ১৭-১৮ সেশনের কয়েকজন শিক্ষার্থী হাসান মেহেদি, নেয়ামত উল্লাহ, তামজিদুল ইসলাম অভিসহ বেশ কয়েকজন নিজ উদ্যোগে গত ১৬ মার্চ রাতে সম্প্রীতি ছড়িয়ে দিতে শাটল ট্রেনে এই পোস্টারগুলো লাগিয়েছেন।

কথা বলছিলাম এর উদ্যোক্তা হাসান মেহেদির সাথে, তিনি জানান, ট্রেন ছাড়ার অনেক আগেই একজন শিক্ষার্থী বন্ধুবান্ধবের জন্য ব্যাগ অথবা অন্য জিনিসপত্র দিয়ে সিট ধরার যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। এটা সত্যিই অমানবিক একটা কাজ মনে হয়েছে আমাদের কাছে। কারন, অনেকে আগে এসেও বসতে পারে না। আবার অনেকে ট্রেন ছাড়ার আগ মুহূর্তে এসে ঠিকই আগে থেকে ধরে রাখা সিটে বসে পড়ছে। তাছাড়া সিনিয়রদেরকে পুরো পথ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেও একবারের জন্য সম্মান দেখিয়ে কোনো জুনিয়র যেমন সিট ছেড়ে দেয় না, তেমনি সিনিয়ররাও কখনো সম্প্রীতি না দেখাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এতে আমাদের মাঝে যেমন সম্প্রীতির অভাব তৈরী হয়েছে, তেমনি আমাদের ঐক্যের অভাবও পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই আমরা চেয়েছি এমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে, যেটা শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্প্রীতি বৃদ্ধির পাশাপাশি  যাতায়াতের দুর্ভোগও কিছুটা লাঘব করবে।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের মার্চের দিকে বন্ধুদের সাথে নিয়ে প্রায় ৬০০ পোস্টার লাগিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কে বা কারা সেগুলো ছিঁড়ে ফেলেছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে এখনো অনেক শিক্ষার্থী আছে, যারা চায় সবার মাঝে এই সম্প্রীতিটা গড়ে উঠুক। তাই আবারও একই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমরা। আশাকরি সকলে বিষয়টা সানন্দে গ্রহণ করবে।

চবি শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকট দীর্ঘদিনের। আবাসন সংকটের ফলে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ শহরে বাসা নিয়ে থাকে । কিন্তু শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ২২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থা কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ। তাই শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে ১৯৮০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে নগরীর বটতলী স্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শাটল ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়। সেই সময় চালু হওয়া দুটি শাটল ট্রেনের সাথে পরবর্তীতে যুক্ত হয়েছিলো একটি ডেমু ট্রেন। ট্রেনগুলোর প্রতিদিন নয়বারের যাওয়া আসায় প্রায় ১০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী যাতায়াত করে থাকে। তবে শিক্ষার্থী বাড়লেও ১০ বগির জায়গায় নানান অজুহাত দেখিয়ে সাত থেকে আটটি করে বগি দিচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এতে করে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ক্রমেই বেড়ে চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত একাধিক শিক্ষার্থী জানান, দীর্ঘদিন ধরে শাটল ও এর বগি বৃদ্ধি না হলেও শিক্ষার্থীদের চাপ ঠিকই বাড়ছে। সিট না পেয়ে অনেকেই এই দীর্ঘপথ দাঁড়িয়ে কিংবা দরজায় বসে যেতে হয়। যেখানে দরজায় দাঁড়ানো কিংবা বসে যাওয়া দু’টোই ঝুঁকিপূর্ণ। কারন অধিকাংশ সময় চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছুঁড়তে দেখা যায় রেললাইনের পার্শ্ববর্তি বস্তির ছেলেদের। ইতোপূর্বে এই ধরনের ঘটনায় অনেক শিক্ষার্থী আহতও হয়েছে। যদিও ট্রেনে থাকা রেলওয়ে পুলিশের এটা নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই। অপরদিকে তাৎক্ষণিক চলন্ত ট্রেন থামিয়ে পাথর নিক্ষেপকারীকে সনাক্ত করাও প্রায় অসম্ভব। এছাড়াও জানালার পাশে কিংবা দরজায় দাঁড়ানো অনেকের হাত থেকে মোবাইল, ব্যাগ ছুঁ মেরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও অহরহ ঘটেই চলছে। এমন নানান ঝুঁকির মধ্যেও প্রতিনিয়ত চলাচল করতে হচ্ছে নিরুপায় শিক্ষার্থীদের। তাই প্রশাসনের উদ্যোগের দিকে তাকিয়ে না থেকে এবার সম্প্রীতির উদ্যোগটাই কিছুটা ফলপ্রসূ হতে পারে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন থেকেই শাটল ট্রেনে সিট ধরার সংস্কৃতি চালু রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তৈরী হয়েছে বিশৃঙ্খলার বড় বড় ইস্যুও। একটা সময় বগি ভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপ উপগ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলো। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বিবেচনায় এক পর্যায়ে শাখা ছাত্রলীগও দীর্ঘদিনের বগির রাজনীতির ইতি টেনেছিলো। এমনকি গত বছরের ১৩ আগস্ট একের অধিক সিট ধরার নীতি বন্ধের ঘোষণা দিয়ে ১৪ সদস্যের ‘শাটল শৃঙ্খলা কমিটি’ ঘোষণা দেন ছাত্রলীগ। কিন্তু সব ভোগান্তির মূলে যাত্রীর তুলনায় অপ্রতুল পরিবহন সমস্যা রয়েই গেছে। কাজেই শিক্ষার্থীরা মনে করছেন সম্প্রীতিই হতে পারে চবির পরিবহন সংকটের শেষ ভরসা!

ফেনীর সাবেক তিন এমপিসহ ১৫৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে ছাত্রদলের সাবেক নেতার গাড়…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও প্র…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আইইউবি ও দৃষ্টি চট্টগ্রাম আয়োজিত ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিত…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিইউবিটির রিসার্চ উইক ২০২৬: উদ্ভাবনা ও গবেষণায় উৎকর্ষের সম্…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভাঙা ও পরিত্যক্ত টেবিলে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়েছে কুবিতে ভর্…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬