নান্দনিক এই আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস)। এর আগে গত বছর সর্বপ্রথম এই আয়োজন করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। সেখানেই চবি সাংবাদিক সমিতি ঘোষণা দিয়েছিল এই আয়োজনের। নানা জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১৮ এবং ১৯ মার্চ দুইদিনের এই নান্দনিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্নও হয়েছে।
গত সোমবার সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের সামনে থেকে আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। পরে চবির সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ও বক্তব্য রাখেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।

এদিন ক্যাম্পাস প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতার , গাজী টিভি ও সারাবাংলা ডট নেট’র এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, চবি প্রক্টর অধ্যাপক মো. আলী আজগর চৌধুরী, যোগাযোগ ও সাংবাদিক তা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ও অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন চবিসাসের সভাপতি সৈয়দ বায়েজিদ ইমন।
পরবর্তিতে গাজী টিভি ও সারাবাংলা ডট নেট’র এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা সাংবাদিকতা বিষয়ক লার্নিং সেশন পরিচালনা করেন। এতে ছিলো প্রশ্নোত্তর পর্বও। মধ্যহ্নভোজের পর ক্যাম্পাস প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে পাহাড় ঘেরা সবুজ ক্যাম্পাস ঘুরে দেখান চবি সাংবাদিক সমিতি। মাঝে মাঝে সবাই একসাথে ক্যামেরা বন্দী হচ্ছিলেন, আবার কেউ সবাইকে সাথে নিয়ে সেলফি তুলছিলেন।

তারপর বিকেল ৫ টায় চবির জারুলতলায় শুরু হয় জমকালো মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে চবির সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাধিক পরিবেশনা ছিলো মনমাতানো। এছাড়া আবহ সঙ্গীত ও আদিবাসী নৃত্য ছিলো চোখজুড়ানো। পাশাপাশি চবি শিক্ষার্থীদের ব্র্যান্ড দল বগিবাজ এর পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী শাটল ট্রেনের সব গানও যে মাতিয়ে রেখেছিলো জারুলতলা প্রাঙ্গণ। এরপর রাত ৮ টায় মঞ্চে উঠে ব্র্যান্ড দল শিরোনামহীন। দুই ঘন্টার মন্ত্রমুগ্ধ পরিবেশনায় মঞ্চ কাঁপান ‘শিরোনামহীন’।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুর রব হলে রাতের খাবার শেষে দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানস্থল তথা কক্সবাজারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সবাই। অপেক্ষারত বাসগুলোতে সবাই সবার গ্রুপ নিয়ে উঠে পড়েন। রাত ১২টায় প্রথম বাসটি ক্যাম্পাস ছেড়ে যায়। ১৮ তারিখ উপজেলা নির্বাচন থাকায় আশেপাশে মোটামুটি থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিলো।
প্রথম বাসটি দূর্বৃত্তদের হামলার কবলে পড়েছিলো। যদিও তেমন কেউ গুরুতর আহত হননি। পরে পুলিশ পাহারায় নিরাপদ দূরত্বে অন্য বাসগুলো দিয়ে আসা হয়। কিছুদূর যাওয়ার পর বাসের মধ্যে কেউ ঘুমাচ্ছিলো, আবার কেউ গানে মাতিয়ে রেখেছিলো পুরো বাস। এভাবে আনন্দ ভ্রমণের সমাপ্তি ঘটলো রাত তিনটায়। কক্সবাজার পৌঁছাতেই হোটেলের রুম গুলো বুকিং হতে থাকে। সবাই তড়িঘড়ি করে ঘুমাতে যায়। কারন সকাল ১০টায় নির্দিষ্ট সিডিউল অনুযায়ী অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হবে।

পরদিন সকালে সবাই নাস্তা শেষে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কিছুটা দেরি হলেও সকাল ১১টায় শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম। এতে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের এক্সিকিউটিভ এডিটর খালেদ মহিউদ্দীন এবং সময় টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার এহসান জুয়েল। প্রশিক্ষকদের আলোচনা শেষ হতে না হতেই শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্ব ছিলো সবচেয়ে উপভোগ্য এবং দীর্ঘ।
ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের নানান প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাচ্ছিলেন প্রশিক্ষকরা। এই পর্বে অনুষ্ঠান এক অনন্য রুপ ধারণ করে। দুপুর পেরিয়ে গেলেও প্রশ্নোত্তর পর্ব যেন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েই চলছিল। এক পর্যায়ে দুপুর তিনটায় এই পর্বের সমাপ্তি ঘটে। পরে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ক্যাম্পাস প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। এরপর মধ্যাহ্নভোজ শেষে পুনরায় অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়।
দ্বিতীয় পর্বে ছিলো উৎসবে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর প্রতিটি সংগঠনকে সম্মাননা প্রদান এবং ক্যাম্পাস প্রতিনিধিদের মত-বিনিময় পর্ব। এসময় প্রতিটি সংগঠন থেকে একজন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যকালে সংগঠনগুলো বাংলাদেশ ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দের নিকট নিজেদের দাবি দাওয়া এবং পরামর্শ তুলে ধরেন। পরে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন সংগঠনগুলো।

পরবর্তীতে ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে। এরপর সকলের সম্মিলিত ফটোসেশন শেষে বিকেল ৫ টায় সমুদ্র সৈকতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় সবাই। অনেকে অল্প সময়ের এই সমুদ্রবিলাশকে স্মরণীয় করে রাখতে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ পানিতে নেমে পড়েন। দুইদিনের সব ক্লান্তিকে নিমিষেই ঝেড়ে ফেলতে এরচেয়ে ভালো উপায় আর কি হতে পারে!

রাত ৮টায় চট্টগ্রাম শহর এবং ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট বাস ছেড়ে যাওয়ার কথা। তবে অনেকে কক্সবাজারের ভ্রমণটাকে আরও দীর্ঘায়িত করতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। আবার অনেকে ক্যাস্পাসের বাসে না উঠে সরাসরি ঢাকা, সিলেট বা রাজশাহীর বাসে উঠে যাচ্ছিলো। সবাইকে বিদায় জানিয়ে ক্যাম্পাসের বাস গুলো ছেড়ে গেলে পথিমধ্যে কেউ কেউ নিজের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে নেমে পড়ে। সবাইকে বিদায় জানিয়ে একে একে সবাই নিজের গন্তব্যে পৌঁছেছে। শুধু স্মৃতির পাতায় রয়ে গেছে ‘জাতীয় ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা উৎসব-২০১৯ ’র প্রতিটি মুহূর্ত!
উল্লেখ্য, জাতীয় ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা উৎসব-১৯’ এর আয়োজনে টাইটেল স্পন্সর হিসেবে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেছে প্রাণ আপ। এছাড়া পার্টনার হিসেবে ছিলো কেএসআরএম ও বিএনএনআরসি।