অপরিকল্পিতভাবে যেখানে সেখানে তৈরি করা হচ্ছে অনুষদীয় ফটক
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অপরিকল্পিতভাবে যেখানে সেখানে তৈরি করা হচ্ছে অনুষদীয় ফটক। এতে যেমন নষ্ট হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য তেমনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশের সংগঠন নীলদলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যকরী সংগঠন লিখিতভাবে এসব অভিযোগ করেন। এছাড়া এভাবে যত্রতত্র গেট নির্মাণে বিরূপ মন্তব্য করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে কামাল রঞ্জিত (কে. আর) মার্কেট সংলগ্ন একটি অনুষদীয় ফটক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদ। এছাড়াও গাছ কেটে ফটক ও রাস্তা তৈরি করছে কৃষি অনুষদ। এদিকে ভেটেরিনারি অনুষদ তাদের নিজস্ব অনুষদীয় ফটক নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে লিখিতভাবে অভিযোগ প্রদান করে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশের সংগঠন নীলদল। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. এস এম রহমত উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন তাদের লিখিত অভিযোগে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের যত্রতত্র অপরিকল্পিতভাবে ফটক নির্মাণ করা হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসেপ্টের সাথে সাংঘর্ষিক। এছাড়াও গবেষণার নামে ছোট ছোট ঘর/স্থাপনা নির্মাণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য নষ্ট করা হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জোর দাবী জানাচ্ছি।’
এদিকে পশুপালন অনুষদের ফটক তৈরির কাজ বন্ধ করার জন্য শুরু থেকে লিখিতভাবে অভিযোগ করে আসছিল বলে জানায় কৃষি অর্থনীতি ও গ্রমীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সবুর। লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, ‘পশুপালন অনুষদ মার্কেটের মধ্যবর্তী রাস্তায় একটি স্থায়ী ফটক নির্মাণ করতে যাচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর পরিবেশ নষ্ট হবে। আমরা প্রশাসনের কাছে ফটক তৈরী না করার জন্য অভিযোগ করি। কিন্তু পশুপালন অনুষদ ইতিমধ্যেই উক্ত স্থানে ফটক নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর করে। এর জন্য যেখানে গেট নির্মাণে প্রায় সকল সকল কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক পরেশচন্দ্র মোদক বলেন, পশুপালন অনুষদ সর্বসাধারণের চলাফেলার রাস্তায় ফটক নির্মাণ করছে। আর এ জায়গাটি তাদেরও না। যে জায়গায় গেইট নির্মাণ করছে সেখানে শিক্ষার্থীরা বসে আড্ডা দেয়। এছাড়া সেখানে একটি মে ফ্লাওয়ার গাছ রয়েছে। গেইট নির্মাণে তারা সে গাছটির গোড়াও প্রায় অর্ধেক কেটে ফেলেছে। একটি মহলের প্রচেষ্টায় তারা এ কাজটি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর বলেন, গেইট নির্মাণ বিষয়ে দুই অনুষদের শিক্ষকদের নিজেদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা সমাধানের জন্য বসে বিষয়টি মীমাংসার নির্দেশ দিয়েছি।