মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির দখলে ঢাকা কলেজের মুক্তমঞ্চ

১৯ এপ্রিল ২০২৫, ১১:২৪ AM , আপডেট: ২৮ জুন ২০২৫, ০৬:১৪ PM
ঢাকা কলেজের মুক্তমঞ্চ

ঢাকা কলেজের মুক্তমঞ্চ © সংগৃহীত

তিন মাসের বেশি সময় ধরে ঢাকা কলেজের মুক্তমঞ্চ মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তির দখলে রয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে কলেজের সহশিক্ষা কার্যক্রম, নষ্ট হচ্ছে ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি তিন মাসের বেশি সময়ের অবৈধভাবে মুক্তমঞ্চ ব্যবহার করছেন। তিনি সেখানে প্রকাশ্যে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সেবনে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করছে। এ ছাড়া মুক্তমঞ্চে প্রতিষ্ঠানের সামাজিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছেন। বিষয়টি কলেজ প্রশাসনকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির নাম রাজু। তার বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

রাজুর ভাষ্যমতে, তিনি ঢাকা কলেজের ১৯৯৮-৯৯ সেশনের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী।

সরেজমিনে ক্যাম্পাসে দেখা যায়, ঢাকা কলেজের দ্বিতীয় গেট থেকে একটু এগিয়ে ডান পাশে মুক্তমঞ্চ। সেখানে বালিশ, কম্বলসহ বিভিন্ন নোংরা কাপড়ের স্তূপ করে বসে আছেন মানসিক ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তি। কিন্তু মুক্তমঞ্চে বিগত দিনে সহশিক্ষামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন করত সামাজিক সংগঠনগুলো।

বর্তমানে রাজু এই জায়গা দখল করার কারণে সংগঠনগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। তিনি মুক্তমঞ্চে খাওয়াদাওয়া করেন এবং ঘুমান। এমনকি এখানেই সে প্রকাশ্যে মাদকদ্রব্য সেবন করে।এতে মঞ্চটি মাদকদ্রব্য সেবনের মঞ্চে পরিণত হয়েছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি রাজু বলেন, ২০২০ সালে নেহাল স্যার আমাকে জেলে দিয়েছিল। জেল সরাসরি এখানে এসেছি। নেতারা আমাকে দেয় তা দিয়ে আমি চলি। আমার প্রতিদিন ৫০০ টাকা খরচ হয়।

ঢাকা কলেজ ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সায়েম বলেন, ক্যাম্পাসে ঢোকার পরেই দেখা যায় একটা লোক শুয়ে আছে। কিন্তু সে কে, আমরা কেউ জানি না। এটা খুবই দৃষ্টিকটু বিষয়। আমরা আগে ডিবেটিং সোসাইটির (ডিসিডিএস) সেশন বিজয় চত্বর ও মুক্তমঞ্চে করতাম। কারণ এসব জায়গায় করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেখতে পারেন। এতে তারা এ বিষয়ে আগ্ৰহী হয়। যখন সে মুক্তমঞ্চে বসা শুরু করে, তখন থেকেই আর সেখানে আমাদের সেশন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। কলেজ প্রশাসনকে অফিশিয়ালি কখনো জানানো হয়নি। তবে স্যারদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিন্তু তারা গুরুত্ব দেননি। কলেজ প্রশাসনের তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী জাহেরুল ইসলাম বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তি মুক্তমঞ্চে থাকেন এবং এখানে তিনি গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সেবন করেন। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে বের করে দেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক পারভীন সুলতানা হায়দার বলেন, বাইরের কারও কলেজের পরিবেশ নষ্ট করার অধিকার নেই। বিষয়টি আজকেই শুনলাম। এর আগে আমাকে কেউ জানায়নি। যারা জানেন, তাদের সঙ্গে আলাপ করে দেখি।

তিনি আরও বলেন, আগের প্রিন্সিপাল জানেন কি না, তার সঙ্গেও কথা হবে। আমি বিষয়টি আরও ভালোভাবে জানি। তারপর সবার সম্মতিক্রমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যাতে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট এবং শিক্ষার্থীদের জন্য হুমকি না হয়।

কবে প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা? জানাল ইসি
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবিতে পানি-বিদ্যুতের অপচয় রোধে ছাত্রদলের সচেতনতামূলক কর্মস…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ব্যর্থ—এখন কী হবে?
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
১৯৭০ এর দশকের জ্বালানি তেল সংকটের সময় কী হয়েছিল?
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
৪ সিটি কর্পোরেশনে বিশেষ গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পে পুরস্কারের ঘোষণা প্রতিমন্ত্…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬