আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতি-পদায়নে এগিয়ে ছাত্রলীগ-আওয়ামীপন্থিরা

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:৩২ PM , আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৫, ০৪:০৮ PM
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় © ফাইল ছবি

মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ দিনের দাবির প্রেক্ষিতে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৫ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে যাত্রা শুরুর মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পদোন্নতি নিয়ে টালবাহানা চলছিল ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে। দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত থাকার কারণে কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম হতাশা ছিল। সম্প্রতি শূন্য পদের বিপরীতে বিভিন্ন পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি না দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িতদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতিতে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পদোন্নতি বঞ্চিতরা।

জানা গেছে, সেকশন অফিসার থেকে সহকারী রেজিস্ট্রার, সহকারী পরিচালক, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে ২৭ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এই ২৭ কর্মকর্তার মধ্যে অধিকাংশ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। বর্তমানে তারা বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নেতা। পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘মাই ম্যান’ হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে বৈষম্যের শিকার কর্মকর্তারা পদোন্নতি থেকে বাদ পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে পদোন্নতি পাওয়া মো. ইয়াছিন আলীর শিক্ষা জীবনে তৃতীয় শ্রেণি রয়েছে। সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী শিক্ষাজীবনে তৃতীয় শ্রেণি থাকলে কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। অভ্যন্তরীণ প্রার্থী হিসেবে শিক্ষাগত যোগ্যতার শিথিলের সুযোগে তার চাকরি হয়। ইয়াছিন আলী আওয়ামী লীগের দোসর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর সাবেক শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম (এন আই) খানের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত।

‘আমি দল দেখে পদোন্নতি দেইনি। এখানে কে কোন দল করে সেটা দেখার জন্য আমি এই পদে বসিনি। পদোন্নতি-পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি। নিয়ম মেনে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ কোনো প্রমাণ দেখাতে পারে তাহলে সংশ্লিষ্টদের পদোন্নতি বাতিল করে দেওয়া হবে। যারা আগে আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারাই এ ধরনের তথ্য ছড়াতে পারে—অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুল আলম, উপাচার্য, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়

আইসিটি ডিভিশনে চাকরির সময় এন আই খানের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল জানিয়ে মো. ইয়াছিন আলী বলেন, ‘আমি এন আই খানের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলাম না। আমার শিক্ষাজীবনে কোনো তৃতীয় শ্রেণি নেই। কোনো আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে তাহলে আমাকে যে শাস্তি দেওয়া হবে আমি তা মেনে নেব।’

সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদোন্নতি পাওয়া মো. রুমী কিসলু বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের নেতা । বর্তমানে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সেকশন অফিসার থাকাকালীন আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে তাকে বদলি করা হয়। সাবেক ভিসি আব্দুর রশীদের সময় ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন মাদরাসার তদন্ত, অধিভুক্তি নবায়ন, পাঠদানে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। 

বঙ্গবন্ধু পরিষদের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে রুমী কিসলু বলেন, ‘আমি কখনো ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন আমার নাম বঙ্গবন্ধু পরিষদে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কমিটিতে নাম দিলে তো আর কিছু বলার থাকে না। আমি কখনো কোনো আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বক্তব্য নিয়ে যান। তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে যান।’

সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) পদে পদোন্নতি পাওয়া আবু সালেহ মুসার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সনদ জালের অভিযোগ উঠে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটের সত্যতা যাচাই সম্ভব হয়নি। গভর্নিং বডিতে আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে তাকে বদলি করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফোন দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

ছাত্রলীগ নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা মোঃ মুশফিকুর রহমান ফিরোজকে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নিজের খোলস পরিবর্তন করে বিএনপি-জামাত সাজার চেষ্টা করছেন তিনি। টাকার বিনিময়ে পরীক্ষা দপ্তরের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নিজেকে বড় কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া শাহ নেওয়াজকে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য ও বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া মো. মাহমুদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরে তার বিরুদ্ধে টাকা চুরির অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তাকে বদলিও করা হয়েছিল। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সাব্বির হান্নানকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। সনদ শাখায় দুর্নীতির কারণে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়। দুর্নীতির কারণে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সকল কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য মাওলানা মো. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. রুহুল্লাহকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট সদস্য হয়ে নিজের ছেলেকে নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা মো. রুহুল্লাহ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সনদ শাখায় থাকা অবস্থায় আর্থিক কেলেঙ্কারির দায়ে ওএসডি করা হয়। দুর্নীতির কারণে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে থেকে রেজিস্ট্রার দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।

নেত্রকোনা ৫ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আহমদ হোসেনের ভাগ্নে মো. দিদার উল্লাহকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা দিদার ক্রয় শাখায় থাকা অবস্থায় কোটি টাকার টেন্ডার বাণিজ্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষা দপ্তরের খাতা ক্রয়ের সময় মোটা অংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহর জামাতা আব্দুল লতিফকে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিল শাখায় থাকা অবস্থায় বিভিন্ন নিয়োগের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। নিজের আপন ছোট ভাইকে ফটোমেশিন অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেয়।

ছাত্রলীগ নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা মোঃ মুশফিকুর রহমান ফিরোজকে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নিজের খোলস পরিবর্তন করে বিএনপি-জামাত সাজার চেষ্টা করছেন তিনি। টাকার বিনিময়ে পরীক্ষা দপ্তরের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা মো. মাহবুবুর রহমানকে সহকারী রেজিস্ট্রার করা হয়েছে। গভর্নিং বডি থাকা অবস্থায় লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কোনো রকম পদক্ষেপ নেয়নি।

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি ফয়সাল আহমেদকে পদোন্নতি দিয়ে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক করা হয়েছে। এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

নিয়োগের পর থেকেই মাদ্রাসা পরিদর্শক দপ্তরে রয়েছেন মো. লুৎফর রহমান। তাকে একই দপ্তরে সহকারী পরিদর্শক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এ বিষয়ে জানতে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুল আলম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমি দল দেখে পদোন্নতি দেইনি। এখানে কে কোন দল করে সেটা দেখার জন্য আমি এই পদে বসিনি। পদোন্নতি-পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি। নিয়ম মেনে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ কোনো প্রমাণ দেখাতে পারে তাহলে সংশ্লিষ্টদের পদোন্নতি বাতিল করে দেওয়া হবে। যারা আগে আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারাই এ ধরনের তথ্য ছড়াতে পারে বলেও জানান তিনি।’

ডিসেম্বরে নতুন পে স্কেলে বেতন পেতে পারেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
৫৫ মাদ্রাসা প্রধানকে শোকজ, দেখুন তালিকা
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
২০২৭ সালের ছুটির তালিকা প্রকাশ, প্রজ্ঞাপন জারি
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
জামালপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদ্রাসা…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
এমআইএসটির ভর্তি পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে হোম ইকোনমিক্স কলেজে শিক্ষার্থীদে…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950