জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

এক সমাবর্তনেই দেড় যুগ পার

১০ অক্টোবর ২০২৩, ০৯:২৬ AM , আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৩০ PM
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন © ফাইল ছবি

আগামী ২০ অক্টোবর ১৮ বছর পেরিয়ে ১৯ বছরে পদার্পণ করবে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার বয়স দীর্ঘ দেড় যুগ হলেও সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র একবার। ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ এবং একমাত্র সমাবর্তনের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন করে সমাবর্তন আয়োজন করেনি প্রশাসন। ফলে সমাবর্তনের অপেক্ষায় আছেন আরও ১৪ হাজারের বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী।

সমাবর্তন আয়োজন না করার পেছনে প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন এসব শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর একজন শিক্ষার্থীর কাছে সমাবর্তন মানে দারুণ উপভোগ্য এক অনুভূতি। কালো রঙের গাউন-টুপি পরে শিক্ষা সনদ গ্রহণ করা—গ্র্যাজুয়েটদের জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত। নিয়মিত সমাবর্তন আয়োজন না হওয়ায় সেই সুযোগ থেকে ক্রমাগত বঞ্চিত হচ্ছি আমরা।

জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পর ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। পুরান ঢাকার ধুপখোলা মাঠে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের উপস্থিতিতে ১৯ হাজার শিক্ষার্থী কালো গাউনে সমাবর্তন উদযাপন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চলতি বছরের মার্চে প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজনের ঘোষণা দেয়। কিন্তু সাবেক রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর আব্দুল হামিদের মেয়াদ গত এপ্রিল মাসে শেষ হওয়ায় সমাবর্তনের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে জানিয়েছিল, নতুন রাষ্ট্রপতি আসলে শিগগির দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজন করা হবে। 

কিন্তু নতুন রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর মো. সাহাবুদ্দিন শপথ নেয় গত ২৪ এপ্রিলে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের যোগদানের প্রায় সাড়ে ৫ মাস শেষ হলেও দ্বিতীয় সমাবর্তন নিয়ে কোনো প্রস্তুতি নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়। সমার্বতন নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করতে চাইলেও বিষয়টি এড়িয়ে যায় প্রশাসন। এর ফলে দ্বিতীয় সমাবর্তন নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ হাজার শিক্ষার্থী। 

জানা যায়, গত বছরের নভেম্বরে দ্বিতীয় সমাবর্তনের ঘোষণা করে জবি প্রশাসন। সে সময় বলা হয়েছিল, ২০২৩ সালের মার্চে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল, পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের নিয়ে এ সমাবর্তন আয়োজন করা হবে। এছাড়াও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্নাতকের ফলাফল প্রকাশ হওয়া সাপেক্ষে তারাও সমাবর্তনে অংগ্রহণ করতে পারবেন বলে জানানো হয়। তবে ২০২৩ সালের মার্চে দ্বিতীয় সমাবর্তনের অয়োজন করা হয়নি।

সমাবর্তন আয়োজন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কামরুল হুসাইন বলেন, সমাবর্তন একটি উৎসব, প্রত্যেক শিক্ষার্থী চায় সমাবর্তন নিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করবে কিন্তু এক্ষেত্রে দুর্ভাগা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দাবির প্রক্ষিতে ২০২০ সালে প্রথম সমাবর্তন হয়, এরপর  ছন্নছাড়া। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ। অবিলম্বে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজন ও প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষে সমাবর্তন আয়োজনের নিশ্চয়তার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রগতিশীল হওয়া অবশ্যাম্ভাবী হয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি সেই জানুয়ারির শুরুতে শুনেছি মার্চের সমাবর্তন হবে কিন্তু এখন দেখি এ বছর শেষ হবার পথে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কখনোই সমাবর্ত নিয়ে আন্তরিকতা দেখায়নি। এর আগের সমাবর্তন ছাত্রলীগ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলস্বরূপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বছরের শেষের দিকে কিংবা জানুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখনতো লাগাদার রাজনৈতিক কর্মসূচি লেগেই আছে তাহলে আমাদের সমাবর্তন টা কবে হবে বুঝতে পারছি না। 

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি রাজনৈতিক ভয়ে নাকি নির্বাচনকে সামনে রেখে সমাবর্তন আয়োজন করতে চাচ্ছে না বিষয়টি নিয়ে সন্ধিহান আছি। নাকি সামনে নির্বাচন বলে সবাই নিশ্চুপ হয়ে আছে। আমরা চাই দ্রুততম সময়ে আমাদের সমাবর্তন আয়োজন করুক কারণ অনেকেই প্রথম সমাবর্তন পাইনি কিংবা উপস্থিত হতে পারেনি তখন। 

অন্যদিকে সমাবর্তনের স্থান ধূপখোলা মাঠে নাকি কেরানীগঞ্জে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে হবে তা নিয়েও এখনো সংশয় রয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনোকিছু বলতে রাজি নন। সমাবর্তন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হককে সামনাসামনি কিংবা মুঠোফোনে প্রশ্ন করা হলে তিনি বরাবরের মত বিষয়টি এড়িয়ে যান। এই নিয়ে কোন কথা বলতে রাজি নন উপাচার্য। 

যদিও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক অসুস্থ থাকার ফলে বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য) কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সমাবর্তন নিয়ে এই মুহূর্তে আমি কোন ধরনের কথা বলতে চাচ্ছি না। উপাচার্য মহোদয় সুস্থ হয়ে দেশে  ফিরলে তখন জানতে পারবে।

রেডি হও জামায়াত, তোমাদের পাকিস্তান পাঠানো হবে: পাপিয়া
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
নারী সেজে ৮ বছর আত্মগোপনে, যেভাবে ধরল পুলিশ
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
হৃদয়ের অবিশ্বাস্য কীর্তিতে আবেগঘন বার্তা মুশফিকের
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
রাজধানীর নিউগিনি প্রপার্টিজে ফের হামলা
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
এইচএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষণ সময় বাড়ল, বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানাল …
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
ইয়ামালের ৭ ব্যালন ডি’অর জয়েও অবাক হবেন না রাশফোর্ড
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950