মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় লোগো © সংগৃহীত
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ও ইংরেজি বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে যাচ্ছে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল। পরিদর্শন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শিক্ষা পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এতে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ইউজিসির বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের আটতলাবিশিষ্ট অস্থায়ী একাডেমিক ভবন সরেজমিন পরিদর্শন করেন। দুটি বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদনের লক্ষ্যে তাঁরা এ পরিদর্শন করেন।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন। বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকির এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. মো. কামরুল ইসলাম। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মহিবুল আহসান। এ ছাড়া ইউজিসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক নূর ইসলাম চৌধুরী কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এর মধ্যে ছিল শ্রেণিকক্ষ, কম্পিউটার ল্যাব, লাইব্রেরি, ছাত্রীদের কমনরুম, মেডিকেল ইউনিটসহ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা।
এ সময় প্রতিনিধিদল ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি, অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শন শেষে এসব বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, প্রতিনিধিদলের ইতিবাচক মনোভাব নতুন দুটি বিভাগের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় আশার সঞ্চার করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, Faculty of Engineering and Technology-এর অধীনে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) এবং Faculty of Arts-এর অধীনে ইংরেজি বিভাগ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভাগ দুটির অনুমোদন পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অস্থায়ী ক্যাম্পাসে প্রয়োজনীয় শিক্ষা অবকাঠামো ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রস্তুত করা হয়েছে। নতুন দুটি বিভাগের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির মধ্য দিয়ে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা আরও এগিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রত্যাশা করছেন। তাঁদের আশা, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুত শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হলে মেহেরপুরসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার প্রসারেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বিশ্ববিদ্যালয়টি।