উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ © টিডিসি ছবি
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য বুঝতে হলে তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে দিনটিকে মূল্যায়ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ। তিনি বলেছেন, ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য অনুধাবনের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চেতনাও ধারণ করতে হবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, ‘৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিনটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বুঝতে হলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের দিকে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল তৎকালীন শাসন, শোষণ, বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষের সম্মিলিত প্রতিবাদের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। এ আন্দোলন বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে আরও শক্তিশালী করেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের পর মেজর জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহ ঘোষণা এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধের পেছনে এ দেশের সাধারণ মানুষ, মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বের অবদান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। যার ফলশ্রুতিতে সৃষ্টি হয় ৭ নভেম্বরের। ইতিহাসের এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে। ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য অনুধাবনের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চেতনাকে ধারণ করতে হবে।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, ‘১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বরিশালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে উদ্যোগ ও সমর্থন ব্যক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে। এর ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালে বরিশাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন প্রণীত হয়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল প্রতিষ্ঠার আইন পাস হয়। নানা পরিবর্তন ও প্রক্রিয়া অতিক্রম করে ২০১০ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণীত হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবশেষে ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০১২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে একাডেমিক কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে।’ এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অংশীজনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান উপাচার্য।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ। তিনি ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় এ দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাদেকুর রহমান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আরিফ উল ইসলাম এবং উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. মুরশীদ আবেদীন।
কর্মচারীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মো. হাসানুজ্জামান ও মো. জাকির হোসেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্ত ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আশিক। ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।