ক্যাম্পাসের গাছে-গাছে পেরেক
© টিডিসি ফটো
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আসন্ন ২৬তম সম্মেলনকে ঘিরে গাছে পেরেক ঠুকে ব্যানার-ফেস্টুন টানানোর হিড়িক পড়ে। ফলে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ে ক্যাম্পাসের সৌন্দযবর্ধক গাছ। এ নিয়ে আজ শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) 'প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য, গাছে পেরেক ঠুকে সম্মেলনের প্রচারণায় রাবি ছাত্রলীগ' শিরোনামে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রশাসনের নজরে আসায় গাছ বাঁচাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছগুলো থেকে সরানো হচ্ছে ব্যানার-ফেস্টুন।
আজ বিকাল ৫টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছগুলো থেকে পেরেক ঠুকে লাগানো ব্যানার-ফেস্টুন খুলতে দেখা যায়।
পেরেকের আঘাতে গাছের যে ছিদ্র হয় সেই ছিদ্র অংশ দিয়ে পানি, বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব ঢুকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এসব গাছের। এসব চিন্তা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিন দেখে যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, প্যারিস রোড, টুকিটাকি চত্বর, কাজলা গেট, পরিবহন মার্কেট, হলগুলোর সামনে, বিনোদপুর ও রেলস্টেশনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গাছগুলোতে পেরেক ঠুকে লাগানো ছাত্রলীগের প্রচারণামূলক ব্যানার-ফেস্টুন তুলে ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসকদের প্রচার-প্রচারণার সাইনবোর্ড-ব্যানার, ফেস্টুন ও বিজ্ঞাপন খোলা হচ্ছে। এসব ব্যানার খুলে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্ন কিছু কর্মী।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. আসাবুল হক ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গাছে পেরেক ঠুকে ব্যানার-ফেস্টুন না টাঙানোর জন্য আমরা প্রথমে মাইকিং করে নির্দেশনা দিয়েছিলাম। তারপরও ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী তাদের প্রচারণার স্বার্থে কিছু ব্যানার লাগায়। এসব নেতা-কর্মীদের আমরা ফোন দিয়ে ব্যানার খুলে ফেলার নির্দেশ দেই। তবুও কিছু ব্যানার-ফেস্টুন গাছে পেরেক বিদ্ধাবস্থায় ছিল। এসব ব্যানারের মধ্যে তার অর্ধেকের বেশি আমরা খুলে ফেলেছি। বাকিগুলো কালকে খুলে ফেলা হবে।
তিনি আরও বলেন, যদি কেউ ব্যানার ফেস্টুন লাগায় তাহলে গাছে পেরেক ঠুকে লাগানো যাবে না। বাঁশ-রশ্মি ব্যবহার করে টাঙাতে পারবে। নিষেধ করার পর যদি কেউ গাছে পেরেক ঠুকে ব্যানার-ফেস্টুন লাগায় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।