সংবাদ সম্মেলন © টিডিসি ফটো
৪৫তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়া ৫৬ চাকরিপ্রার্থী ফের সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন। অবিলম্বে গেজেটভুক্তির দাবিতে আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তারা এ সংবাদ সম্মেলন করবেন। বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন একাধিক চাকরিপ্রার্থী।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গেজেটবঞ্চিত প্রার্থীরা বলেন, গত ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ৪৫তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন থেকে ৫৬ জন প্রার্থী বাদ পড়েছেন। কী কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তা তারা জানেন না। এ অবস্থায় পুনরায় গেজেটভুক্তির দাবিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আজ বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করবেন তারা।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। জানা যায়, ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত মোট সময় লেগেছে প্রায় ৩ বছর ১০ মাস। ২,৩০৯টি শূন্য পদের বিপরীতে ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বরে ৪৫ বিসিএসের সার্কুলার প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি)। সেসময় চলমান জটের কারণে তিন ধাপের; প্রিলিমিনারি, লিখিত, মৌখিক পরীক্ষা শেষ হতে সময় লেগে যায় ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর অবধি। পরের বছরের ৬ নভেম্বর ক্যাডার পদে মোট ১,৮০৭ জনকে সাময়িকভাবে সুপারিশ করে ফলাফল প্রকাশ করে সরকারের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।
এরপর সময় গড়িয়েছে, একে একে পাঁচটি বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে। তবে ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেটের অপেক্ষায় টানা ৩২২ দিন প্রহর গুনেছেন ১ হাজার ৮০৫ জন ক্যাডার পদপ্রার্থী। এ সময় তাদের অনেকেই দীর্ঘ বেকারত্বের অবসান ঘটাতে অন্য চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। আবার অনেকে আগের বিসিএসে গেজেটভুক্ত হয়ে চূড়ান্তভাবে চাকরিতে যোগদান করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেটে প্রাথমিকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১ হাজার ৮০৭ জনের মধ্যে ১০৫ জনের নাম বাদ পড়ে। তাদের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করায় ৪৮ জন এবং কাগজপত্রের জটিলতায় একজনকে বাদ দেওয়া হয়। তবে বাকি ৫৬ জনকে কী কারণে চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পিএসসির পক্ষ থেকে কোনো কারণ জানানো হয়নি।
ফলাফল প্রকাশের এত দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে বারবার উঠে আসছে পুনঃ ভেরিফিকেশনের কথা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, ৪৫তম বিসিএসের ভেরিফিকেশন রিপোর্ট একটি গোয়েন্দা সংস্থা গত জুলাই মাসে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে নতুন করে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, অপর একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পুনরায় ভেরিফিকেশন করানো হবে।