বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন © সংগৃহীত
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে মূল ধারার বিষয়ের সাথে অন্য কোনো বিভাগকে একীভূত করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) পিএসসির একটি সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, পিএসসি এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। শিক্ষা ক্যাডারে মূল ধারার বিষয়ের সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় একীভূত করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ ধরনের উদ্যোগ নিলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হতো।
এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়ায়, বাংলা বিভাগের সঙ্গে ভাষাবিজ্ঞান, অর্থনীতির সঙ্গে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সঙ্গে লোকপ্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, এবং ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে হসপিটালিটি এন্ড ট্যুরিজম বিভাগকে একীভূত করা হচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া ফেসবুকে এ নিয়ে একটি পোস্ট করার পর গুঞ্জনটি আরও জোরালো হয়। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য ওই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
শোনা যাচ্ছে, বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসা হচ্ছে। যেমন-অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষা ক্যাডারের সাথে ডেভলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগকে একীভূত করা হচ্ছে। মানে হচ্ছে ডেভলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা এখন অর্থনীতির এডুকেশন ক্যাডারে আবেদন করতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেভলপমেন্ট স্টাডিজে গ্রাজুয়েশন করেও সরকারি কলেজগুলোতে অর্থনীতির শিক্ষক হতে পারবে।
তেমনি করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষা ক্যাডারের সাথে লোকপ্রশাসন বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগকে একীভূত করা হচ্ছে। ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সাথে হসপিটালিটি এন্ড ট্যুরিজম বিভাগকে এবং বাংলা বিভাগের সাথে ভাষাবিজ্ঞান বিভাগকে একীভূত করা হচ্ছে।
এটার ইতিবাচক দিক:
প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে, ফলে অধিকতর যোগ্যরা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবে। তাছাড়া, যেসব ডিপার্টমেন্টের শিক্ষাক্যাডারে সুযোগ ছিল না, এখন একীভূত করার ফলে তারা বাড়তি একটা সুযোগ পেলো।
নেতিবাচক দিক:
বিভাগগুলোর স্বতন্ত্রতা নষ্ট হবে। যেমন- বাংলা বিভাগে চার বছর অধ্যয়ন করে যা শিখে, ভাষাবিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থী দুই একটা কোর্স পড়ে তা আসলে শিখতে পারে না। দুটো ডিপার্টমেন্টের কোর্স কারিকুলাম স্বতন্ত্র থাকে। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাথে আইআর ও লোকপ্রশাসনকে যুক্ত করলে ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি এসব ডিপার্টমেন্টের শিক্ষা ক্যাডারের সাথেও রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে একীকৃত করা উচিত। এরকম রেসিপ্রোক্যাল না হলে যেসব ডিপার্টমেন্টের সাথে অন্য ডিপার্টমেন্টগুলো একীভূত হচ্ছে সেসব ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের চাকরি সংকুচিত হবে।
এদিকে এ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদ জানায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা একাধিকবার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্বতন্ত্র শিক্ষা ক্যাডার বহাল রাখতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।