রাষ্ট্রদূত সিরাজুল ইসলামের লেখা গণতন্ত্র, সুশাসন ও রাষ্ট্র গঠনবিষয়ক বই ‘Reclaiming Bangladesh: Democracy, Governance, & Nation Building’-এর মোড়ক উন্মোচন © সংগৃহীত
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) রাষ্ট্রদূত সিরাজুল ইসলামের লেখা গণতন্ত্র, সুশাসন ও রাষ্ট্র গঠনবিষয়ক বই ‘Reclaiming Bangladesh: Democracy, Governance, & Nation Building’-এর মোড়ক উন্মোচন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম-৮০১-এ এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এনএসইউর অফিস অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স এবং এনএসইউ’র ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সহযোগিতায় ছিল ঢাকা ফোরাম, এনএসইউ ডিবেট ক্লাব ও এনএসইউ আর্ট অ্যান্ড ফটোগ্রাফি ক্লাব (এনএসইউএপিসি)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। এসময় লেখকের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে লেখক রাষ্ট্রদূত সিরাজুল ইসলামের জীবন, আদর্শ ও বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকার নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তিনি নিজের বিশ্বাসে অটল ছিলেন এবং তার প্রতিটি লেখায় সেই বিশ্বাসের কথা প্রকাশ করতেন। দেশপ্রেমের প্রশ্নে তার কোনো আপস ছিল না। তার লেখা ছিল ক্ষুরধার। তার আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটত তার লেখায়। গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর বিশ্বাস ছিল অকৃত্রিম। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এ সময়ে তাঁর মতো একজন মানুষের আমাদের প্রয়োজন ছিল।’
লেখকের বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তিত্ব প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কোনো বিষয়কে বুঝতে হলে তার গভীরে যেতে হয় এবং একই সঙ্গে একটি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ধরে রাখতে হয়। তিনি ছিলেন নীতির প্রশ্নে অত্যন্ত দৃঢ় ও আপসহীন। তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক সততা এবং প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করার সাহস তাঁর কাজকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছিল।’
জনাব আজিজ আল কায়সার বলেন, ‘নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি শিক্ষা, গবেষণা ও সমাজের সঙ্গে অর্থবহ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে সবসময় অবদান রাখার চেষ্টা করে আসছে। গণতন্ত্র, সুশাসন ও রাষ্ট্র গঠন নিয়ে আলোচনা করতে নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের চিন্তাবিদদের একত্র করার এই উদ্যোগে আমরা আনন্দিত। এ ধরনের আয়োজন অর্থবহ সংলাপের সুযোগ তৈরি করে এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার পথ তৈরি করে।’
অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, ‘এই বইটিতে তিনটি অধ্যায় রয়েছে। এর তৃতীয় অংশটি হলো ‘নেশন বিল্ডিং’ বা রাষ্ট্র গঠন, আর এই বিষয়টি আমাদের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সবসময় দেশের উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করে আসছে। লেখকের পরিবারও যে উদ্যোগ ও অবদান রেখে যাচ্ছে, সেটিও এই বৃহত্তর প্রচেষ্টারই একটি অংশ। একটি দেশকে এগিয়ে নিতে শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে লেখকের পরিবারের পক্ষ থেকে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এনএসইউতে প্রতি বছর এনএসইউ’র ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের দুইজনকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ উদ্যোগের আওতায় গত বছর সামিয়া ইয়াসমিন ও শাহনেওয়াজ কবির এবং এ বছর শেখ তৌহিদুল ইসলাম ও সিদরাতুল মুনতাহা শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. দিলারা চৌধুরী; জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী; এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির। সেশনটি সঞ্চালনা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সালেহ শাহরিয়ার।
অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং রাষ্ট্র গঠনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়।