বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর আরেক বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিলে, সরাতে আন্দোলন শিক্ষার্থীদের

২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৯ PM
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে ‘এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব বিজনেস টেকনোলজি’ নামে আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে ‘এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব বিজনেস টেকনোলজি’ নামে আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে © টিডিসি সম্পাদিত

ঢাকার অদূরে সাভারের বিরুলিয়ার ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে দেশের অন্যতম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি ক্যাম্পাসটির একটি ভবনে ‘এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব বিজনেস টেকনোলজি’ নামে আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা বিষয়টির প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এরই জেরে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে ক্যাম্পাসটির ৪নং একাডেমিক ভবনের সামনে আন্দোলন শুরু করেছেন একদল শিক্ষার্থী। ‘ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অস্তিত্ব রক্ষা’য় ৪ দফা দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। রাত ১০টার পর এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলছে। এ সময় তাদের নানা স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

রাতে জানতে চাইলে মুঠোফোনে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আর কবির দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বর্তমানে আমি দেশের বাইরে রয়েছি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়টি জেনেছি এবং এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে (ড্যাফোডিল গ্রুপ) আমাদের কোথাও ভুল বুঝাবুঝি হচ্ছে। কেননা সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অনুমোদন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালানো যায় না। আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

জানা যায়, ‘এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব বিজনেস টেকনোলজি’ নামের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিও ড্যাফোডিল গ্রুপের। এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিবিএ ও সিএসই বিষয়ে প্রফেশনাল কোর্সে ভর্তির কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানটি ক্যাম্পাসের ৩নং একাডেমিক ভবনটি ব্যবহার করছে। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়টির ভর্তি অফিসেও এ প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদাভাবে জায়গা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। এছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ‘এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব বিজনেস টেকনোলজি’র ব্যানার-ফেস্টুনও লাগানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে এই প্রতিষ্ঠানটি রাজধানীর কলাবাগানের ডলফিন গলিতে কার্যক্রম পরিচালনা করতো। মাস তিনেক আগে সেখান থেকে স্থানান্তর করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৩নং একাডেমিক ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিগ্‌গির ভর্তি কার্যক্রম শেষে ক্লাশ শুরু হবে বলে জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হিসেবে একজন প্রিন্সিপাল দায়িত্ব পালন করছেন। হাবিবা জামান নামে সেখানকার একজন কর্মকর্তা (কাউন্সিলার) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের কাছে দাবি করেন, এখানে শুধু ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পরে নারায়ণগঞ্জের সানারপাড়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু ক্যাম্পাসের একটি ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। তাদের ভর্তি অফিসেও একটি রুম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ক্যাম্পাসে প্রচুর ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। ফলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আরেকটির বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মত তাদের। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্বের জন্যও হুমকিও মনে করছেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে আজ সকালে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়টির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকার অফিসে যান শিক্ষার্থীরা। তখন সেখান থেকে তাদের বলা হয় এবং লিখিতভাবে দেওয়া হয়, অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি জানে না তারা, ব্র্যান্ডিং অফিস জানে। পরে সেখানে গেলে ব্র্যান্ডিং অফিসও জানে না, অনুমতি নেওয়া হয়েছে কীভাবে। পরে একে একে প্রক্টর, এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স অফিসে গেলেও সেখানেও কোনো সদুত্তর পাননি তারা। এরপর রেজিস্ট্রার এবং প্রো-ভিসি অফিসে তারা গেলে এর আগে রেজিস্ট্রার ও প্রো-ভিসি অফিস ছেড়ে চলে যান বলে দাবি তাদের।

অন্যদিকে ভিসি দেশের বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে প্রশাসনের কারও কাছে সদুত্তর না পেয়ে একাডেমিক ভবনে আন্দোলন শুরু করছেন তারা। এসময় ইউনিভার্সিটির অস্তিত্ব রক্ষায় ৪ দফা দাবি ঘোষণা করেন তারা। এগুলো হচ্ছে-

১. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দিয়ে দীর্ঘদিন অবস্থানের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২. ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা সম্পন্ন, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক ব্যক্তিদের প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োগ দিতে হবে। প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের অধিকার ও স্বার্থকে সর্বাগ্রে বিবেচনা করতে হবে।

৩. অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে তিন মাসের জন্য ক্যাম্পাস ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্তে জড়িত দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বহিষ্কার আদেশসহ এই ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করে শিক্ষার্থীদের কাছে ই-মেইলের মাধ্যমে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।

৪. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে তাদের সরিয়ে দিতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রকাশ করতে হবে।

তিতুমীর কলেজের শহীদ মামুন হল মসজিদে ডিজিটাল ঘড়ি স্থাপন ছাত্…
  • ২৩ জুলাই ২০২৬
দক্ষিণ গফরগাঁওকে আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়তে ঐক্যবদ্ধ থাকার আ…
  • ২৩ জুলাই ২০২৬
সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি ডে উদযাপন
  • ২৩ জুলাই ২০২৬
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
  • ২৩ জুলাই ২০২৬
ফল খারাপ নিয়ে দুশ্চিন্তা, প্রকাশের আগেই আত্মহত্যা দাখিল পরী…
  • ২৩ জুলাই ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর আরেক বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিলে, সরাতে …
  • ২৩ জুলাই ২০২৬