প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেসের ডীন প্রফেসর আবুল কালাম © সংগৃহীত
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে এমবিএ ডিগ্রি এখন আর কেবল একাডেমিক অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ক্যারিয়ার উন্নয়ন, নেতৃত্ব বিকাশ এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়িক বাস্তবতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরির একটি কার্যকর মাধ্যম। এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির এমবিএ প্রোগ্রাম এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা ও পেশাগত প্রস্তুতি অর্জনের সুযোগ পায়।
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির এমবিএ কারিকুলাম Outcome-Based Education (OBE) কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে প্রণীত। এখানে শিক্ষার্থীরা কী শিখছে এবং সেই জ্ঞান বাস্তব ক্ষেত্রে কতটা প্রয়োগ করতে পারছে এই বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। ফলে প্রতিটি কোর্সে প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষা, কেস স্টাডি, সিমুলেশন এবং সমস্যা সমাধানভিত্তিক অ্যাসাইনমেন্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু ধারণা অর্জন করে না, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিশ্লেষণ এবং বাস্তব প্রয়োগের দক্ষতাও গড়ে তোলে।
এই প্রোগ্রামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর বৈচিত্র্যময় মেজর অপশন। শিক্ষার্থীরা তাদের আগ্রহ ও পেশাগত লক্ষ্য অনুযায়ী একাউন্টটিং, মার্কেটিং, ফিন্যান্স, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (MIS), অপারেশন ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষায়িত হওয়ার সুযোগ পায়। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্ত হয়েছে অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং (Apparel Merchandising) মেজর, যা দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। এই সংযোজন শিক্ষার্থীদের অ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন, ব্র্যান্ড ম্যানেজমেন্ট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কে বাস্তবধর্মী ধারণা অর্জনে সহায়তা করছে। পাশাপাশি, সময়ের চাহিদা বিবেচনায় নতুন নতুন বিশেষায়ন যুক্ত করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে, যা প্রোগ্রামটিকে আরও সমসাময়িক করে তুলছে। অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী টিউশন ফি এই প্রোগ্রামটিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলেছে।
এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রোগ্রাম কাঠামো যেমন BBA ডিগ্রিধারীদের জন্য ১ বছরের MBA, চাকরিজীবীদের জন্য Executive MBA (EMBA), এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ২ বছরের পূর্ণাঙ্গ MBA প্রোগ্রাম যা তাদের প্রয়োজন ও সময় অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করে।
শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে এখানে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সমন্বয় রাখা হয়েছে। ফুল-টাইম একাডেমিক ফ্যাকাল্টির পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিতে কর্মরত অভিজ্ঞ পেশাজীবীরাও পার্ট-টাইম শিক্ষক হিসেবে যুক্ত আছেন। এই সমন্বয়ের ফলে শিক্ষার্থীরা একদিকে শক্তিশালী তাত্ত্বিক ভিত্তি পায়, অন্যদিকে বাস্তব ব্যবসায়িক জগতের অভিজ্ঞতাও জানতে পারে। শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গবেষণা সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষণ পদ্ধতির চর্চা এই প্রোগ্রামের গুণগত মানকে আরও সমৃদ্ধ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে বিভিন্ন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এক্সচেঞ্জ, যৌথ গবেষণা এবং কারিকুলাম উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোলাবোরেশন শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেয়। ইন্টার্নশিপ, কর্পোরেট ইন্টারঅ্যাকশন এবং ইন্ডাস্ট্রি প্রজেক্টের মাধ্যমে তারা পেশাগত জীবনের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হতে পারে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে।
অ্যালামনাই নেটওয়ার্কও এই প্রোগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সফলভাবে কর্মরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এই নেটওয়ার্কিং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।
শুধু একাডেমিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের দিকেও সমান গুরুত্ব দেয়। নিয়মিত সেমিনার, ওয়ার্কশপ, লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং এবং ক্যারিয়ার কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা, টিমওয়ার্ক, সমস্যা সমাধান এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়তা করা হয়। ওয়ান-টু-ওয়ান কাউন্সেলিং ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত লক্ষ্য নির্ধারণে দিকনির্দেশনা পায়, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক।
এই সহশিক্ষা পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বিজনেস ক্লাব (BizBox), রিসার্চ ক্লাব এবং পাবলিক স্পিকিং ফোরামের মতো প্ল্যাটফর্মসমূহ। এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব দক্ষতা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিজনেস ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উদ্যোক্তা চিন্তাভাবনা, কেস বিশ্লেষণ এবং নেতৃত্ব দক্ষতা অর্জন করছে। রিসার্চ ক্লাব গবেষণামুখী মানসিকতা ও বিশ্লেষণী দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করছে, আর পাবলিক স্পিকিং ফোরাম যোগাযোগ দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলছে। ফলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বাইরে গিয়ে বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।
সবকিছু মিলিয়ে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির এমবিএ প্রোগ্রাম একটি আধুনিক, বাস্তবমুখী এবং ভবিষ্যত-উপযোগী শিক্ষার প্ল্যাটফর্ম। এখানে একজন শিক্ষার্থী কেবল একটি ডিগ্রি অর্জন করে না; বরং নিজেকে গড়ে তোলে একজন দক্ষ পেশাজীবী, কৌশলগত চিন্তাশীল ব্যক্তি এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব হিসেবে। পরিবর্তনশীল বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে চাইলে, এই প্রোগ্রামটি নিঃসন্দেহে একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী পছন্দ।