ড্যাফোডিলের অধ্যাপক ড. এম এ রহিম পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার

০৫ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৭ PM
অধ্যাপক ড. এম এ রহিম

অধ্যাপক ড. এম এ রহিম © টিডিসি ফটো

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কৃষি বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. এম এ রহিম এই বছর ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ পাচ্ছেন। 

দেশের গঠন, কৃষি উন্নয়ন, শিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার এ পুরস্কার প্রদান করছে। এ বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ মোট ২০ জনকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্বাধীনতা পুরস্কার বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ১৯৭৭ সাল থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে প্রতি বছর ২৬ মার্চ এই পদক প্রদান করা হয়ে আসছে। জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই পদক দেওয়া হয়।

অধ্যাপক ড. এম এ রহিমের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনন্য। তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হর্টিকালচার-এ পিএইচডি (ডক্টর অব ফিলোসফি) সম্পন্ন করেছেন (১৯৮৮), যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক করেছেন, এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হর্টিকালচার-এ এম.এস. (১৯৮২) ও কৃষিতে বিএসসি (১৯৮০) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

তাঁর পেশাগত জীবন দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। ১৯৮০-১৯৮২ সালে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ে কৃষি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ থেকে বর্তমান পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএএউ জার্মপ্লাজম সেন্টার-এর পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। ২০১৪ থেকে তিনি হর্টেক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ১৯৮২-২০১৫ পর্যন্ত বিভিন্ন কৃষি প্রকল্পে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন।

ড. রহিমের নেতৃত্বে এবং পরামর্শে ফল ও সবজির উন্নয়ন, কৃষি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্পর্কিত অসংখ্য প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি USAID, USDA-ARS, DANIDA, FAO, SDC এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারের প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষভাবে তিনি রসুন, পেঁয়াজ, গাজর, আম, জ্যাকফ্রুটসহ বিভিন্ন ফসলের উন্নয়নে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়ন করেছেন।

শিক্ষণ ক্ষেত্রেও অধ্যাপক রহিম বিস্তৃত ভূমিকা রাখছেন। তিনি কৃষি, হর্টিকালচার, এন্টোমোলজি, বায়োটেকনোলজি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন, ফসল জোনিং, প্রয়োগিক পুষ্টি, কমিউনিটি পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য, ফিল্ড এপিডেমিওলজি এবং পাবলিক হেলথ এথিকস বিষয়ে শিক্ষকতা দিয়েছেন।

প্রকাশনা ও বই-এর ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। ৫০টির বেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু হলো: নিরাপদ আম উৎপাদন (USAID-AVC, ২০১৫-২০১৬), ফল ও সবজিতে রাসায়নিক ব্যবহারের স্বাস্থ্য প্রভাব, SEAVEG ২০১৪ – সবজি ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট দারিদ্র্য সমাধান, এবং আঞ্চলিক কৃষি জীববৈচিত্র্য সমীক্ষা। তিনি আন্ডারইউটিলাইজড ফ্রুটস ইন বাংলাদেশ, আন্ডারইউটিলাইজড ভেজিটেবলস ইন বাংলাদেশ, এ পিক্টোরিয়াল গাইড টু নার্সারি প্ল্যান্ট ও ফ্রুট ট্রি প্রোপাগেশন অ্যান্ড মাদার ট্রি ম্যানেজমেন্ট বইগুলোর প্রকাশক। এছাড়া ২৪টি লিফলেট, ১১টি বইলেট এবং ২৯টি ফোল্ডার প্রকাশ করেছেন।

তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যাপক রহিম বহু পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক (স্বর্ণপদক, ২০১৪), প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক (ফল ও গাছ গবেষণা, ২০০৪, ২০১২, ২০১৩), নোবেল বিজয়ী ড. নর্ম্যান এর্নেস্ট বরলগ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পুরস্কার (২০০৮), বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস স্বর্ণপদক (২০১২), বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচার স্বর্ণপদক (২০১৬) এবং Channel I ও RTV লাইফটাইম অ্যাওয়ার্ড উল্লেখযোগ্য।

সদস্যপদ ও নেতৃত্বে তিনি ফ্রুট সায়েন্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং সিড সায়েন্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি, আগ্রোফরেস্ট্রি সোসাইটি অব বাংলাদেশ-এর সহ-সভাপতি। এছাড়া তিনি International Society for Horticultural Sciences (ISHS), International Tropical Fruit Network, National Organic Council (বাংলাদেশ), Horticulture Society of India এবং Bangladesh Academy of Agriculture-এর সদস্য।

অধ্যাপক ড. এম এ রহিম বাংলাদেশের কৃষি, হর্টিকালচার, ফল ও সবজি গবেষণা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং কৃষি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে অসামান্য অবদান রাখছেন। তাঁর এই অবদানই তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান করার যোগ্যতা দিয়েছে।

ওসমান হাদি হত্যায় জড়িত ফয়সাল ও আলমগীরকে ১১ দিনের রিমান্ডে ন…
  • ২৭ মার্চ ২০২৬
ফুল-ফ্রি স্কলারশিপে পড়ুন রোমানিয়ায়, আবেদন স্নাতক-স্নাতকোত্ত…
  • ২৭ মার্চ ২০২৬
ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান
  • ২৭ মার্চ ২০২৬
দেশের বাজারে আবারও সোনার দামে বড় পতন, আজ ভরি কত?
  • ২৭ মার্চ ২০২৬
ছুটির দিনেও ‘অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস
  • ২৭ মার্চ ২০২৬
একাত্তরে যুদ্ধবন্দি ৯৩ হাজার পাকিস্তানি কীভাবে দেশে ফেরত গি…
  • ২৭ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence