ড. সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন © সংগৃহীত
ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) ফিজিকেল সায়েন্সেস বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রখ্যাত জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী ড. সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন। ফিজিকেল সায়েন্সেস বিভাগের অ্যাস্ট্রোফিজিক্স গ্রুপে যোগদানের মাধ্যমে ড. আশরাফ উদ্দিন আইইউবির অ্যাকাডেমিক কারিকুলাম এবং গবেষণার মানকে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবেন।
পাঠদানের পাশাপাশি তিনি আইইউবির সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের (কাসা) একজন কোর মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক গবেষণার উদ্দেশ্যে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কাসা বাংলাদেশের একমাত্র জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র। ড. উদ্দিন কাসা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
পর্যবেক্ষণমূলক জ্যোতির্বিজ্ঞান ও বিশ্বতত্ত্বে (কসমোলজি) দুই দশকের বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আইইউবিতে যোগ দিচ্ছেন ড. আশরাফ উদ্দিন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ইউএস নেভাল অবজারভেটরিতে অ্যাস্ট্রোনমার এবং টেক্সাসের ম্যাকডোনাল্ড অবজারভেটরিতে হবি-ইবারলি টেলিস্কোপের রেসিডেন্ট অ্যাস্ট্রোনমার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কার্নেগি ইনস্টিটিউশন অফ ওয়াশিংটনের কার্নেগি অবজারভেটরিসের একজন পোস্টডক্টরাল ফেলো এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটিতে পোস্টডক্টরাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কাজ করেছেন। চীনের পার্পল মাউন্টেন অবজারভেটরিতে চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টস ইন্টারন্যাশনাল ফেলো হিসেবে তিনি অ্যান্টার্কটিক অ্যাস্ট্রোনমি প্রকল্পে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।
ড. আশরাফ উদ্দিন সুপারনোভা কসমোলজির ক্ষেত্রে একজন প্রভাবশালী গবেষক। মহাজাগতিক দূরত্বের স্কেল এবং মহাবিশ্বের প্রসারণের হার বিষয়ক তার গবেষণা বিশ্বব্যাপী আলোচিত ‘হাবল টেনশন’ নিরসনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। তিনি বিভিন্ন ডিস্টেন্স ক্যালিব্রেটর ব্যবহার করে হাবল ধ্রুবক পরিমাপের জন্য কার্নেগি সুপারনোভা প্রজেক্টের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। টাইম-ডোমেইন অ্যাস্ট্রোনমি গবেষণায় – বিশেষ করে ডার্ক এনার্জি সার্ভে এবং অস্ট্রেলিয়া-চায়না কনসোর্টিয়াম ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল রিসার্চ– গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
নাসা অ্যাস্ট্রোফিজিক্স ডেটা সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, ড. উদ্দিন অন্তত ৬৪টি রেফারিড গবেষণাপত্রে লেখক বা সহলেখক হিসেবে ছিলেন যেগুলোর সাইটেশন সংখ্যা ৫,৬০০-্এর বেশি। তার প্রবন্ধ দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল এবং মান্থলি নোটিসেস অফ দ্য রয়েল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির মতো শীর্ষস্থানীয় জার্নালগুলোতে নিয়মিত প্রকাশিত হয়। তার সুপরিচিত গবেষণাকর্মের মধ্যে অন্যতম হলো টাইপ ওয়ান-এ সুপারনোভা ও হোস্ট গ্যালাক্সির মধ্যকার সম্পর্ক অনুসন্ধানের মাধ্যমে ডার্ক এনার্জির প্রকৃতি উদঘাটন করা।
ড. উদ্দিন অস্ট্রেলিয়ার সুইনবার্ন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে প্রফেসর জেরেমি মোল্ডের তত্ত্বাবধানে অ্যাস্ট্রোফিজিক্সে পিএইচডি, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ কেনটাকি থেকে পদার্থবিজ্ঞানে এমএসসি এবং সুইডেনের চ্যালমার্স ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে রেডিও অ্যাস্ট্রোনমি ও স্পেস সায়েন্সে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।