নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। © সংগৃহীত
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার প্রেক্ষাপট নিয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (৯ মার্চ) নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি একাডেমিকস যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আলোচনার বিষয় ছিল ‘হায়ার এডুকেশন ল্যান্ডস্কেপ অফ বাংলাদেশ: কনটেমপোরারি থটস।’
রাউন্ডটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিস অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন সদস্য বেনজীর আহমেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও বিএসপিইউএ’র সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ এ. সোবহানী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতির চাহিদা মোকাবিলায় নীতিগত সহায়তা ও একাডেমিক উৎকর্ষকে একসঙ্গে এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রমাণভিত্তিক নীতিমালা প্রয়োজন। একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের কথা আমাদের শুনতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মো. সবুর খান বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন দেশের উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তবে উচ্চশিক্ষার বিস্তারে আমাদের শিক্ষার সকল স্তরকেই শক্তিশালী করতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে নীতিমালা তৈরিতে সকলের অংশগ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।’
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাত দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর আরও জোর দিতে হবে।’
এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘বিশ্বের অধিকাংশ শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত। তাই সরকারকে আর্থিক সহায়তা, সহায়ক নীতিমালা এবং অনুকূল নিয়ন্ত্রক পরিবেশের মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমর্থন করা উচিত।’
অধিবেশনের সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ফরিদ এ. সোবহানী বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য শিক্ষাবিদদের মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আলোচনার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খুঁজে নিতে পারি। টেকসই অগ্রগতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, নীতিনির্ধারক ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।’
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইফতারের মাধ্যমে আলোচনা শেষে উপস্থিত শিক্ষাবিদ ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মুক্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। পরে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ ধরনের আলোচনা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের উন্নয়নে কার্যকর নীতি ও কৌশল নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।