ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রাথমিকের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল। ‘তাড়াহুড়ো’ করে পরীক্ষা আয়োজন, বিভিন্ন জেলায় প্রশ্ন ফাঁসের মতো অভিযোগ যেমন ছিল; তেমনি অসংখ্য প্রার্থী ডিভাইসসহ আটক হয়েছিলেন। এসব বিতর্কের কারণে পুরো নিয়োগ পরীক্ষা রিভিউ হতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। শুধু তাই, এজন্য একটি কমিটি গঠন করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের আড়াই মাস পার হলেও এখনো প্রার্থীরা যোগদান করতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন যোগদানের অপেক্ষায় থাকা চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তরা।
তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে ‘তাড়াহুড়ো’ করে এমসিকিউ পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সেটি আমলে না নিয়ে দ্রুত মৌখিক পরীক্ষা শেষ করে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। ফলে বিতর্ক আর তীব্র হয়েছে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের কয়েকদিন পরই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মন্ত্রীর কাছে এ নিয়োগ নিয়ে একাধিক অভিযোগ জমা হওয়ায় পুরো পরীক্ষা রিভিউ করার দিকে হাঁটছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘প্রাথমিকের ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ওভারনাইট পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এজন্য পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া রিভিউ করা হতে পারে। আমরা একটি কমিটি গঠনের বিষয়ে ভাবছি। এ কমিটি পুরো বিষয়টি দেখভাল করবে।’
জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে প্রথম ধাপ এবং ১২ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। প্রথম ধাপে ৮ থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে ১৪ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন প্রক্রিয়া চলে। এরপর ২ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পরীক্ষার তারিখ পিছিয়ে ৯ জানুয়ারি করা হয়।
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা বাদে) এক হাজার ৪০৮টি পরীক্ষাকেন্দ্রে একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৯৫টি আবেদন জমা পড়ে এবং ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
এরপর গত ২১ জানুয়ারি রাতে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়। গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্ব স্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর থেকেই পরীক্ষায় তাড়াহুড়ো করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশ। তারা বলছেন, এর আগে প্রাথমিকে কখনো এত দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা হয়নি। এবার নির্বাচন সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় তড়িঘড়ি করেছে। এ কারণে তাদের মধ্যে সন্দেহ বাড়ছে। প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি ও অনিয়ম হয়েছে অভিযোগ করে এ পরীক্ষা বাতিল করার দাবিতে আন্দোলনও হয়েছে। তবে কোনো কিছু কর্ণপাত না করে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
চাকরিপ্রত্যাশী মো. মনোয়ার হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস যে হয়েছে, তা দিবালোকের মতো সত্য। পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র একটি চক্রের হাতে চলে গেছে। সেই প্রশ্ন সোশ্যাল মিডিয়াতেও অনেকে পেয়েছেন। পরে দেখা গেছে প্রশ্নের সঙ্গে মিল রয়েছে।’ যদিও প্রার্থীদের এ দাবির সঙ্গে একমত প্রকাশ করতে পারেননি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়েছিল। তবে কোনো প্রমাণ সেসময় পাওয়া যায়নি। প্রার্থীদের যোগদান নিয়ে মন্ত্রণালয় যে নির্দেশনা দেবে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
প্রার্থীদের যোগদানের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আবু নূর মো. শামসুজ্জামান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) শাহানা সারমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) শাহানা সারমিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয় কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিলে আমরা সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।