আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল ও ছাত্রদল নেতা হত্যাকাণ্ড
এমপি আজিজ ও ছাত্রদল নেতা শাকিল © টিডিসি সম্পাদিত
নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আট ঘণ্টার বৈঠকে ২৩ নেতার মতামত নিয়েও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি নাটোর জেলা বিএনপি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ ও সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে বৈঠকের সিদ্ধান্তের রেজুলেশনও কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি।
গত ৩০ অক্টোবর দলীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিতি হয়।
আব্দুল আজিজের ছেলের বিরুদ্ধে ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ এবং সংসদ সদস্যের আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে জেলা বিএনপির এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনা শেষে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ জানান, সেদিনের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বিষয়ে কোনো এজেন্ডা ছিল না। সদস্য সচিব নিজের উদ্যোগে এ বিষয়ে সবার মতামত জানতে চান। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রে মতামত পাঠাতে তিনি অপারগতা জানান।
অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, বৈঠকে উপস্থিত জেলা বিএনপির ২৩ জন নেতা বক্তব্য দেন। তাঁরা সবাই সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বিষয়ে স্পষ্ট মতামত তুলে ধরেন। আব্দুল আজিজ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সবার মতামতের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ ভিন্নমত পোষণ করায় সংকট তৈরি হয়েছে।
এর আগে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের তিনটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এদিকে, ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় সংসদ সদস্যের ছেলে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করে। এসব ঘটনায় আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে।
নিজের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, ‘এগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট। আমার রাজনৈতিক একটি পক্ষ উঠেপড়ে লেগেছে। এখন ইন্টারনেটের যুগ। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করা যেতে পারে। প্রতিপক্ষ আমার সুনাম-সুখ্যাতি বিনষ্ট করার জন্য এগুলো করছে।’