চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান © টিডিসি ফটো
চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বাঁশখালীতে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। গাড়িতে বসে না থেকে পানিবন্দি মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের খোঁজ নেন তিনি। ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা বিতরণের পাশাপাশি দুর্গতদের সাহস জোগান। তার এই সফরে স্থানীয়দের মুখে বারবার শোনা যায় ‘দাদু আসছে।’
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গুনাগরি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শনে যান ডা. শফিকুর রহমান। টানা বৃষ্টিতে ওই এলাকায় কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় বহু মানুষ ঘর ছেড়ে দোকানের মাচা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন।
এ সময় তিনি স্থানীয় লাবুর দোকানসংলগ্ন এলাকায় আশ্রয় নেওয়া শতাধিক পরিবারের হাতে নিজেই ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।তবে তার সফর শুধু ত্রাণ বিতরণে সীমাবদ্ধ ছিল না। পাঞ্জাবি গুটিয়ে কোমরসমান পানি ভেঙে দুর্গম এলাকার বাড়ি বাড়ি যান তিনি। কোথাও ঘরের সামনে, কোথাও ঘরের ভেতরে গিয়ে শিশু, বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষের খোঁজ নেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সাহস জোগান।
স্থানীয় বাসিন্দা আহমেদ হোসেন বলেন, ‘অনেক নেতা এসেছেন, ছবি তুলে চলে গেছেন। কিন্তু উনি আমাদের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে সাহস দিয়েছেন। এটাই আমাদের বড় পাওয়া।’
আরও পড়ুন: তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: জামায়াত আমির
ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আসিনি। এসেছি বিপন্ন মানুষের কষ্টের সঙ্গী হতে। মানুষের এই দুর্ভোগ সংসদে বসে উপলব্ধি করা যায় না। মাঠে এসে না দেখলে এই কষ্ট বোঝা সম্ভব নয়।’
তিনি জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সরকারের প্রতি দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক দুর্যোগে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের প্রতিও গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা শেষে আবারও দুর্গত মানুষের ভিড়ে মিশে যান তিনি। হাত মেলান স্থানীয়দের সঙ্গে। শোনেন তাদের দুর্ভোগ ও বেঁচে থাকার সংগ্রামের কথা। আর চারপাশে তখনও ভেসে আসে একটাই ডাক ‘দাদু আসছে, দাদু আসছে।’