পদ হারাতে পারেন বিএনপির এমপি-মন্ত্রীরা, আলোচনায় যেসব নাম

১৮ মে ২০২৬, ১২:২৭ PM , আপডেট: ১৮ মে ২০২৬, ১২:২৭ PM
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের লোগো

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের লোগো © সংগৃহীত

দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও ক্ষমতার পালাবদলের পর সরকার ও বিএনপির সম্পর্ক এখন অনেকটাই সমান্তরাল অবস্থানে পৌঁছেছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ একই সঙ্গে দলীয় রাজনীতিতেও প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। এতে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে দলটির নীতিনির্ধারক মহল। 

এমন বাস্তবতায় কেন্দ্রীয় পদ ছাড়া জেলা, মহানগর ও থানা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ থেকে মন্ত্রী ও এমপিদের সরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করছে বিএনপি। দলীয় সূত্র বলছে, নতুন নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ সৃষ্টি এবং সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও গতিশীল করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সরকারের দায়িত্বে থাকা অনেক মন্ত্রী-এমপিকে দলীয় পদ ছাড়তে হতে পারে। একইসঙ্গে বিএনপিতে দীর্ঘদিন আলোচিত ‘এক নেতার এক পদ’ নীতিও কার্যকর হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের একটি বাড়ির নির্দিষ্ট গণ্ডি থেকে বের করে রাজনীতিকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন। যারা মন্ত্রী-এমপি থাকবেন, তারা দলীয় কোনো পদে থাকবেন না জিয়াউর রহমানের এ মডেল অনুসরণ করে ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি চালু করেছিল বিএনপি। ২০১৬ সালে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে এ বিষয়ে গঠনতন্ত্রে যুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা মহাগর বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল—এ তিন সংগঠনের অন্তত ছয়জন নেতা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এরা হলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা-১৮ আসনে উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, ফেনী-১ আসনে দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, ভোলা-৪ আসনে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নরুল ইসলাম নয়ন, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী এবং বরিশাল-৪ আসনে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান। এদের সরিয়ে দিয়ে এ তিন ইউনিটের নতুন কমিটি গঠনের কাজ চলমান।

আরও পড়ুন: সব মুসলিম দেশের ঈদ ২৭ মে হলেও বাংলাদেশে কেন ২৮ মে?

সংসদ সদস্যের পাশাপাশি জেলা ও মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদেও আছেন অনেকে। এদের মধ্যে আছেন লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পানিসম্পদ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, লালমনিরহাট-৩ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ও রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৪ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, মাগুরা-১ আসনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন খান, চট্টগাম-৮ আসনে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্যাহ, মাদারীপুর-২ আসনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহান, নড়াইল-১ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম।

বান্দরবানে জেলা বিএনপি আহ্বায়ক সাচিং প্রু, সিলেট-৬ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, নরসিংদী-১ আসনে জেলার বিএনপির সভাপতি ও দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী, নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর) জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গফুর সরকার, জামালপুর-৪ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম, জামালপুর-৫ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, চাঁদপুর-৩ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলসহ অনেক সংসদ সদস্য।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু  বলেন, ‘শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে দল ও সরকারে একটা পার্থক্য ছিল। সেই সময়ে দলের যেসব নেতা সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী থাকতেন, তারা জেলার সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে থাকলে অন্যদের নেতৃত্বের জায়গা করে দিতে পদত্যাগ করতেন। এতে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হত। এটাকে আমাদের প্রতিষ্ঠাতা উৎসাহিত করতেন। এ ধরণের রেওয়াজ তিনি অনেকটাই দলে বাস্তবায়ন করেছিলেন। এই মডেল অনুসরণ করে ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি চালু  করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস। আগামীদিনে সরকার ও দলের নতুন সাংগঠনিক কাজ সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে এগোবে। অতীতে অনেক নেতা একাধিক পদে ছিলেন। এখন হয়তো ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি কার্যকর হতে পারে। কাউকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপার নয়, হয়তো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করে দল ও সরকার পরিচালনা করবেন—এটা স্বাভাবিক। দীর্ঘ সময় ধরে তা করে আসছেন।’

হাবিপ্রবিতে কাঁচা আম-লিচু পাড়ার হিড়িক, স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা
  • ১৮ মে ২০২৬
এনসিপি থেকে সাগরকে বহিষ্কারের পর নতুন দায়িত্ব পেলেন দিনা
  • ১৮ মে ২০২৬
ফরিদপুরে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ২
  • ১৮ মে ২০২৬
কঙ্গোয় ছড়াচ্ছে নতুন প্রজাতির ইবোলা, উগান্ডাতেও সংক্রমণ; ডব্…
  • ১৮ মে ২০২৬
লবণসহ নানা সংকটে যশোরের চামড়া ব্যবসায়ীরা
  • ১৮ মে ২০২৬
এসএসসির খাতা না দেখানোয় দুই শিক্ষার্থীকে কোপাল ৮-১০ জন
  • ১৮ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081